ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্রোহী কবির কৈশোরের স্বপ্ন আজও জীবন্ত

বিদ্রোহী কবির কৈশোরের স্বপ্ন আজও জীবন্ত
×

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ | ২১:৩৪

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্ম হলেও, তাঁর কৈশোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ত্রিশালের মাটিতে। সে অনুযায়ী ত্রিশালের মানুষের মনে চিরজীবনের জন্য জায়গা করে নিয়েছেন বিদ্রোহী কবি।

জানা যায়, ১৯১৪ সালে কিশোর নজরুল যখন আসানসোলে এক রুটির দোকানে কাজ করতেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫। সেই সময়ে নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হন আসানসোলে কর্মরত ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামের দারোগা কাজী রফিজ উল্লাহ। তিনি কিশোর নজরুলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পান এবং তাঁকে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এভাবেই নজরুল পাড়ি জমান ত্রিশালে।

ত্রিশালে এসে নজরুলকে ভর্তি করানো হয় দরিরামপুর হাইস্কুলে। এখানে তিনি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। কাজীর শিমলা থেকে দরিরামপুর স্কুলের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। তাই দারোগা রফিজ উল্লাহ তাকে ত্রিশালের নামাপাড়ায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এই সময়েই নজরুলের জীবনে ঘটে এক নতুন পরিবর্তন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গ্রামের মুক্ত পরিবেশে বাঁশি বাজাতেন, গান গাইতেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াতেন। নামাপাড়ার সেই বটগাছ, শুকনী বিলের পাশ দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া– সবকিছুই তাঁর কৈশোরের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।
নজরুল গবেষকদের মতে, ওই সময়েই তাঁর সাহিত্য প্রতিভার ভিত্তি গড়ে ওঠে। ত্রিশালের প্রকৃতি, মানুষ এবং সহজ-সরল জীবন তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রতিফলন ঘটে।

ত্রিশালে কবির স্মৃতি রক্ষার্থে গড়ে তোলা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া রয়েছে নজরুল স্মৃতি জাদুঘর, দরিরামপুর স্কুলের সেই পুরোনো শ্রেণিকক্ষ, যেখানে কবি পড়াশোনা করতেন। এসবই ত্রিশালকে নজরুলপ্রেমীদের কাছে একটি তীর্থস্থানে পরিণত করেছে।

ত্রিশালে প্রতিবছর ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবির জন্মদিন এবং ১২ ভাদ্র প্রয়াণ দিবস পালিত হয়। বিশেষ করে কবির জন্মদিন উপলক্ষে এখানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান করা হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনামের মতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ত্রিশালে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। শিক্ষার্থীরা নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে গবেষণা করছেন এবং তাঁর গান ও কবিতা চর্চা করছেন। তাছাড়া নজরুল কেন্দ্রিক বিভিন্ন জাতীয় প্রোগ্রামগুলো পালিত হয় বেশ জাঁকজমকভাবে।

ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যাশা, এই বিশ্ববিদ্যালয় এক দিন কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নজরুল চর্চার একটি অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে। নজরুলের স্মৃতিকে জীবন্ত রেখে নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছেন ত্রিশালবাসী, যেখানে কবি তাঁর কর্ম ও আদর্শের মাধ্যমে আজও প্রাসঙ্গিক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, ত্রিশালের মানুষ নজরুলকে এতটাই ভালোবাসে যে, তাঁর স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোনো প্রকার ঘাটতি রাখার সুযোগ নেই। নজরুলজয়ন্তী অনেক বড় পরিসরে আয়োজিত হয়।

আরও পড়ুন

×