ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মেলে শুধু পরামর্শ, তাই আসে না রোগী

মেলে শুধু পরামর্শ, তাই আসে না রোগী
×

রোগীশূন্য বালিয়াটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল

 মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ | ০১:০৩

বালিয়াটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সুভাষ চন্দ্র শিকদার বসে বসে মোবাইল ফোন ঘাঁটছিলেন। তখন সকাল সাড়ে ১০টা বাজে। কোনো রোগী নেই তাঁর কেন্দ্রে। ওষুধ নেই, মেলে শুধু পরামর্শ। তাই এ কেন্দ্রে রোগীও আসেন না। বালিয়াটির মতো সাটুরিয়া উপজেলার সব স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরই একই চিত্র। 
বালিয়াটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ডাক্তার সুভাষ চন্দ্র শিকদার জানান, এক বছর ধরে কোনো ওষুধ নেই তাঁর কেন্দ্রে। ওষুধ মেলে না বলে রোগীও আসেন না। সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বসে থাকলেও রোগীর দেখা মেলে না। সারাদিনে তিন থেকে চারজন রোগী এলেও তাদের ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে নিতে বলা হয়। সুভাষ চন্দ্র বলেন, আগে প্রতিদিন শতাধিক রোগী দেখতাম। এখন ওষুধ না থাকায় রোগী আসছেন না।
এ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা খালেদা আক্তার জানান, আগে প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী আসতেন। ওষুধ না থাকায় এখন দিনে ১০ থেকে ১৫ জন রোগী আসছেন। কেন্দ্রে এসে রোগীরা ওষুধ চান কিন্তু তা দিতে না পারলে তারা রাগারাগি করেন।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ছয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ছয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং একটি ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বেশির ভাগ নারীই চিকিৎসাসেবা নেন। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী এসব কেন্দ্র থেকে নানা পরামর্শ নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ এবং উপকরণ এসব কেন্দ্র থেকে নেওয়া হয়। সেসবও এখন এসব কেন্দ্রে নেই। কেন্দ্রে আসা রোগীদের মৌখিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে শুধু। 
গত সোমবার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা 
গেছে, চিকিৎসক আছেন, রোগী নেই। একাধিক রোগী কেন্দ্রে এলেও ওষুধ পাচ্ছেন না। কেন্দ্রগুলোতে রক্তচাপ পরিমাপ ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে দায় সারছেন চিকিৎসকরা। 
এ সময় কথা হয় রোগী আদুরী বেগমের সঙ্গে। তিনি পেট ব্যথা ও বুক জ্বালাপোড়ার জন্য এসেছিলেন বালিয়াটি পরিবার পরিকল্পনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। চিকিৎসক একটি ব্যবস্থাপত্র তাঁর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, বাইরের ফামের্সি থেকে ওষুধ কিনে খেতে হবে। আদুরীর মতো একাধিক রোগী এসেছিলেন বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে। তাদেরও দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থাপত্র। 
কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা। কিন্তু রোগী না থাকায় এসব কেন্দ্রের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা দুপুর ১২টার দিকেই কেন্দ্র বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে ২২ ধরনের ওষুধ দেওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান দায়িত্বরতরা দিতে পারছেন ১২ ধরনের ওষুধ। 
সাটুরিয়ার দিঘলিয়া ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে প্রায়ই বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে বসে গল্প করে সময় কাটান কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির গেটে তালা ঝুলছে এমন ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সাটুরিয়ার ইউএনওকে দেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিনাত ফারজানাকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেন। 
এ প্রসঙ্গে সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিনাত ফারজানা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ওষুধ নেই। এমনকি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, কনডমসহ বিভিন্ন ওষুধ এতদিন সরবরাহ বন্ধ ছিল। গত জুলাই মাসে নারীদের ব্যবহারের কিছু ওষুধ পেয়েছি। জন্মনিয়ন্ত্রণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের কিছু ওষুধে কেন্দ্রগুলো চালু থাকলেও অন্যান্য ওষুধ না থাকায় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দুপুর ১২টার মধ্যেই অফিস ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আশা করছি এ সংকট অচিরেই কেটে যাবে। এ বছরের মধ্যেই সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যাবে। 

আরও পড়ুন

×