পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা
.
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৪ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৬
‘এ বছরও সার-কীটনাশকের দাম বেশি। বাড়তি খরচ মাথায় নিয়েই সাড়ে সাত বিঘা জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছি। চলতি মৌসুমে মাঝেমাঝেই অতিবৃষ্টি হচ্ছে। আবার বৃষ্টি চলে গেলেই অতিরিক্ত তাপ ও গরমে ধানে মাজরা, পাতা মোড়ানো, কারেন্ট, গান্ধিসহ নানা ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। গেল বছর দুইবার কীটনাশক ছিটিয়েই কাজ হয়েছিল। কিন্তু এবার চারবার কীটনাশক ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। পোকার কাছে আমরা অসহায়।’ কথাগুলো বলছিলেন কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা এলাকার কৃষক মিলন আলী।
রোববার উপজেলার চাপড়া, যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কেউ ধানক্ষেতে কীটনাশক, কেউবা সার ছিটাচ্ছেন। কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কারে। ক্ষেতের বিভিন্ন অংশে ধান গাছ মরে ফাঁকা হয়ে গেছে। কোনো কোনো গাছের মাথা মরে লালচে হয়ে গেছে।
চাপড়া ইউনিয়নের চাপড়া সেতু এলাকার কৃষক মো. লালু বলেন, এবার প্রতি বস্তা সার কিনতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি লেগেছে। ওষুধের বোতলেও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। তারপরও পোকার আক্রমণে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমন আবাদ করে মূলধন তোলাই মুশকিল হয়ে পড়বে বলে শঙ্কা জানান তিনি।
যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের কৃষক সোলেমান শেখ জানান, একবার স্প্রে করতে চার-পাঁচশ টাকা খরচ হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারবার স্প্রে করা হয়েছে। আরও কয়েকবার লাগবে।
ধান চাষে এত স্প্রে করলে কৃষক কী করে লাভবান হবে?
একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান মোল্লা সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমনের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ইজারা, চাষ, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় শ্রমিক খরচও বেড়েছে। সব মিলে প্রতি বিঘায় আমন আবাদে খরচ হয়েছে ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা, যা গতবারের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি। তাঁর ভাষ্য, গত বছর বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ মণ ফলন হয়েছিল। তবে এ বছর আট থেকে ১০ মণের বেশি হবে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৪ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি।
জমির ইজারা, বীজ, সার, চাষ ও পরিচর্যা বাবদ প্রতি বিঘায় খরচ লেগেছে ১৫-১৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমনে মাজরাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
