হাসপাতালের কেনাকাটায় বড় অনিয়ম, ড্যাবের তিন শাখার কার্যক্রম স্থগিত
.
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৮
কুমিল্লায় বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) তিনটি শাখার সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ড্যাব কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম হাসানের বিরুদ্ধে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাতে ড্যাবের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার ড্যাবের কুমিল্লা মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান এবং জেলা ও মহানগর কমিটির একাধিক নেতা সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ফজলে রাব্বীকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার ওই কমিটি তদন্তে আসবে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সূত্র।
জানা গেছে, সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হলে চিকিৎসক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে ২৪ কোটি টাকার কেনাকাটায় চার কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে। লুটপাটে হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ পারভেজ ও ড্যাবের কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম হাসান জড়িত বলে অভিযোগ। এরপর গত রোববার দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে ড্যাবের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শাখা এবং জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও মেডিকেল কলেজ কর্মচারীদের উদ্যোগে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভা চলাকালে হঠাৎ উপস্থিত হন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ড্যাবের কুমিল্লা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ হায়দার। সভায় আরিফ হায়দার জেলা সভাপতি হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেন। একই সভায় হাসানও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই দীর্ঘ বক্তব্যে আরিফ হায়দার হাসপাতালের কেনাকাটায় অর্থ লোপাটের তথ্য তুলে ধরেন। পরে একই সভায় হাসান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
ড্যাব কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় কুমিল্লা মেডিকেলের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, ড্যাব কুমিল্লা মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্য বক্তারা হাসানের বিরুদ্ধে আসা প্রতিটি অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।
তবে হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। প্রিন্টিং ভুলে ওষুধের অতিরিক্ত দাম উঠেছে। পরে দাম সংশোধন করা হয়েছে। ড্যাবের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
