নরসিংদীতে আধিপত্য নিয়ে দু’পক্ষে সংঘর্ষে গুলিতে যুবদল নেতা নিহত, আহত ৩
সাদেক মিয়া
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৩:৩১ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৩:৪৩
নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার, বালু উত্তোলন ও দখলদারিত্ব নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেক মিয়া (৪২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।
আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে আলোকবালীর মুরাদনগর গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী ও বহিষ্কৃত সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমদাদুল হক।
গত ১২ দিনের ব্যবধানে এ নিয়ে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে মহিলাসহ তিনজন নিহত হলেন। নিহত সাদেক মিয়া মুরাদনগর গ্রামের রুপ মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্মআহবায়ক ছিলেন। তিনি আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার ও বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলম চৌধুরী ও আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এর জেরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী ইদন মিয়া (৫৫) নিহত হন। পরদিন ফেরদৌসী বেগম (৪২) নামে এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় কাইয়ুম মিয়া তার নিয়ন্ত্রণাধীন মুরাদনগর, বকশালীপুর, বাখরনগর ও বীরগাঁও গ্রামের প্রভাব হারান।
এই প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার ভোরে পুনরায় চার গ্রামের দখল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে সাদেক মিয়া নিহত হন। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে যমুনা টিভির নরসিংদী প্রতিনিধি আউয়ুব খান সরকার হামলার শিকার হন। সংঘর্ষ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উভয় গ্রুপের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জড়িত রয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের যৌথ অংশগ্রহণের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় উত্তেজনা চলে আসছে।
এ বিষয়ে শাহ আলম চৌধুরী বলেন, বালুখেকো, খুনি ও অপকর্মের দায়ে বহিষ্কৃত আব্দুল কাইয়ুম ও তার বাহিনী নিরীহ সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সে আওয়ামী লীগের দোসর ও তাদের সুবিধাভোগী। আমার দলে কোনো আওয়ামী লীগ কর্মী নেই। বরং কাইয়ুম আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে মিলে একের পর এক খুন ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে। বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল কাইয়ুম মিয়া বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহ ও সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দিপুসহ ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এখন পর্যন্ত আমার দুইজন কর্মী নিহত হয়েছেন। আসাদ উল্লাহ ও দেলোয়ার দিপুকে গ্রেপ্তার করলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।
ওসি এমদাদুল হক বলেন, আলোকবালীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কোন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে; তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ফরিদা গুলসানারা কবির বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত অবস্থায় একজনকে আমাদের এখানে আনা হয়েছে। আহত অবস্থায় আরও কয়েকজন নিয়ে আসা হয়েছে।
