আ.লীগ নেতার জামিনের প্রতিবাদে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ ডিসির কার্যালয়
শেরপুরে আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন পালের জামিনে মুক্তির প্রতিবাদে গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:০৪ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুরে আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন পালের জামিনে মুক্তির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এ কর্মসূচি চলে।
ফটকে আটকে অবস্থান কর্মসূচির কারণে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজে আসা নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়েন।
শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি চন্দন কুমার পাল গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেরপুর আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। এর প্রতিবাদে গতকাল ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবার’ এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হলেও মূল আয়োজক ছিল জেলা এনসিপি।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা চন্দন পালকে ফের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি কারামুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি, জিপির অপসারণ, জামিনদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শক্তিপদ পাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান আকন্দসহ জামিনের পক্ষে সমর্থনকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চলার পর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সেন্টিমেন্টকে সম্মান জানাতে এসেছি। যতটুকু জেনেছি, বিচারিক প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালত থেকে চন্দন পালের জামিন হয়েছে। নিম্ন আদালতে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। আপনারা দাবিগুলো লিখিত আকারে দেন, সরকারকে এক ঘণ্টার মধ্যে জানাব। তিনি আরও বলেন, এখানে শত শত লোক আসে। সকাল থেকে কাজ-কর্ম বন্ধ হয়ে আছে। কালেক্টরেট অঙ্গনে জেলা দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অফিস রয়েছে। সকাল থেকে লোকজন ঢুকতে পারছে না।
তাঁর আহ্বানের পর জেলা এনসিপি নেতা লিখন মিয়া কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর আগে কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্যে লিখন মিয়া বলেন, জামিনে জড়িত প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আজকের পর থেকে যদি আদালতের দায়িত্বশীলরা এভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
চন্দন পালের জামিনের বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার কারণে প্রায় এক বছর নিম্ন আদালতে জামিন পাননি চন্দন পাল। তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৬ মামলায় জামিন পান। ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এজাহারবহির্ভূত আসামি চন্দনের শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি হিসেবে তাঁর জামিনের ঘোর বিরোধিতা করি। বিজ্ঞ বিচারক আইনজীবী ও বাদীর জিম্মায় পুলিশ রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এ আদেশ আদালতের স্বাধীন বিচারিক ক্ষমতার অংশ। এখানে পিপির কোনো আইনি এখতিয়ার বা প্রভাব নেই। তিনি আরও বলেন, যড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কুৎসা ও অপপ্রচার ছড়িয়ে আমার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে।
শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি চন্দন কুমার পাল গত বছরের ১৬ অক্টোবর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর প্রায় এক বছর শেরপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ৬ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। তবে মুক্তিলাভের পর কারা ফটকে ফের আটক হন। পরদিন তাঁকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। ২৯ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় তিনি শেরপুর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
ঘটনাটি পরদিন জানাজানি হলে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু করেন। চন্দন পালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, উচ্চ আদালত চন্দন পালকে জামিন দিয়েছেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যে মামলায় তাঁর জামিন হয়েছে, সেই মামলায় তিনি আসামি নন। এজাহারভুক্ত আসামি না হওয়ায় তাঁকে আদালত জামিন দিয়েছেন।
চন্দন পালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
গতকাল বিকেলে চন্দন পালের পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির আবেদন গ্রহণ করে চন্দন পালের পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল মান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
- বিষয় :
- অবরুদ্ধ
- আওয়ামী লীগ নেতা
- প্রতিবাদ
- জামিন
- শেরপুর
