ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাবেক ওসি ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাবেক ওসি ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
×

 ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও পরে আলামত নষ্টের অভিযোগে সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালা এবং শিক্ষক মুরাদুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। বুধবার বিকেলে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চার্জশিট আমলে নেন। পাশাপাশি দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। 
মোজাম্মেল হক জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে পিবিআই বগুড়ার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

মামলা থেকে জানা গেছে, জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শিক্ষক মুরাদুজ্জামান ওরফে মুকুল ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে ধুনট পৌরসভা দক্ষিণ অফিসারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। ওই বাসার মালিকের কিশোরী মেয়েকে কৌশলে জড়িয়ে ধরে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন মুরাদুজ্জামান। পরে সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন। ২০২২ সালের ১২ মে ফের তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে স্বজনেরা এগিয়ে এলে মুরাদুজ্জামান পালিয়ে যান। ওই দিনই কিশোরীর মা  বাদী হয়ে মুরাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওসি কৃপা সিন্ধু বালা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি মুরাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও তাঁর ফোন জব্দ করেন। 

মামলার বাদীর অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া চার্জশিট দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি দাবি করা ঘুষের টাকা দিতে পারেননি। পরে আসামির স্ত্রীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করেন। ২২ আগস্ট বগুড়া পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে জেলা ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওসি কৃপা সিন্ধু বালা সেখানেও হস্তক্ষেপ করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বরাবর আবেদন করা হয়। পিবিআই বগুড়ার এসআই সবুজ আলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এরপরও ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারাজির আবেদন করলে আদালত ১৫ আগস্ট তা মঞ্জুর করে সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বগুড়া পিবিআই-কে পুনরায় নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। অবশেষে বগুড়া পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণে প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় আসামি মুরাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বর্তমানে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এ কর্মরত আছেন। 

আরও পড়ুন

×