ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রেললাইনে মরদেহ, চিরকুটে লেখা ‘আমার মরে যাওয়াতে কাউকে দায়ী করবেন না’

রেললাইনে মরদেহ, চিরকুটে লেখা ‘আমার মরে যাওয়াতে কাউকে দায়ী করবেন না’
×

.

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ০২:৪৬ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ০২:৪৭

রেললাইনে পড়ে ছিল একটি পাঞ্জাবি, টুপি আর তাসবীহ। পাশে পড়ে ছিল হাত-পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন একটি মরদেহ। প্রথমে যা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে পাঞ্জাবির পকেট থেকে দুটি চিরকুট পায় পুলিশ। একটিতে লেখা, ‘আমার মরে যাওয়াতে কাউকে দায়ী করবেন না’, অপরটিতে নাম, ঠিকানা ও পরিবারের ফোন নম্বর।
 
বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর এলাকা থেকে মো. আব্দুস ছালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

নিহত ছালাম নেত্রকোনার মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামের প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দেহ তিন টুকরো হয়ে রেললাইনে পড়ে আছে। পরে বিষয়টি কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হন ছালাম। রাতে ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুরে বোন সাহেরা খাতুনের বাড়িতে আসেন। পরিবারের ধারণা, মানসিক সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

নিহতের ভাবি পান্না আক্তার বলেন, ছালাম মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। তার স্ত্রী ও সাড়ে তিন বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ছালামের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাঞ্জাবির পকেট থেকে দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি মো. বাহাউদ্দীন ফারুকী বিপিএম-পিপিএম বলেন, ছালাম মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ছিলেন। চিকিৎসার কাগজপত্রও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×