বালু তোলা বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চায় বিজিবি
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সুনামগঞ্জ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-২৮। তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতার প্রয়োজন বিজিবির। বুধবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন বিজিবি-২৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির।
সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বিজিবি দিনে ও রাতে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকলে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়বে। ফলে অস্ত্র, মাদক চোরাচালানসহ সীমান্ত হত্যা বেড়ে যেতে পারে, যা দেশের জন্য অনেক বিপজ্জনক।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে বিজিবি এককভাবে ২৪ ঘণ্টা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে। সাধারণত প্রতিটি বিওপি গড়ে ৫-৭ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকা পাহরা দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে যাদুকাটা নদীতে ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে কিছু কুচক্রী মহল এবং অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে ব্যাপকভাবে নদীর পাড় ভাঙনের কারণে ভবিষ্যতে লাউরগড় বিওপিসহ নিকটবর্তী গ্রামের অনেক বাসিন্দা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিজিবি যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, মূল সমস্যাটি হচ্ছে ইজারার সীমানা নির্ধারণের পর বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং কুচক্রী মহল খাসজমি থেকে বালু উত্তোলন করে। এ কাজে এক যোগে ১৫শ থেকে দুই হাজার নৌকা নিয়ে ১৫ হাজর থেকে ২০ হাজার শ্রমিক একসঙ্গে বালু উত্তোলন করে। বিশেষ করে গভীর রাতে ইজারাবহির্ভূত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রবণতা বেড়ে গেলে বিজিবি ছাড়া অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই এলাকায় থাকে না। বিজিবি এককভাবে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে পাড় কেটে বালু উত্তোলন ঠেকাতে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি লাউরগড় বিওপিতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য ও নৌযান মোতায়েন করা হয়েছে। সেটি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের নৌকা ও শ্রমিকের তুলনায় অনেক কম। এ ব্যাপারটি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কেন না এটি বিজিবির একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
- বিষয় :
- বালুমহাল
