ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হলো সহরায় পরব

প্রদীপ জ্বালিয়ে  শুরু হলো  সহরায় পরব
×

রায়গঞ্জের পশ্চিম আটঘরিড়া গ্রামে সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সহরাই উৎসব উদযাপন সমকাল

 তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

গোয়াল পূজাকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘সহরায় উৎসব বা সোহ্রাই’ গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয় এ উৎসব। নিজেদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে মহাসমারোহে এ উৎসব উদযাপন করেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জের আদিবাসীরা।
 কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সহরায় পরব বা গোয়াল পূজার আয়োজন করে চলনবিল অধ্যুষিত এলাকার প্রায় ৫০ পরিবার। তাদের বেশির ভাগই মাহাতো সম্প্রদায়ের। তিন দিনব্যাপী উৎসবে বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাহারি আলপনা আঁকা হয় দেয়ালজুড়ে। রাতে গৃহপালিত পশুদের শিংয়ে তেল দেওয়া হয়। বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় লাঙল, জোয়াল, মই, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব ধরনের যন্ত্রপাতির। সন্ধ্যার পর শুরু হয় ঘি ও তেলের প্রদীপ প্রজ্বালন পর্ব। প্রতিটি ঘরের দরজা, গরু-মহিষ রাখার ঘর, ধানের ক্ষেত, গোয়ালঘর, খামার, ফলবান বৃক্ষ ও অন্যান্য আয়ের উৎসসূচক স্থানে পিঁড়ায় মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো হয়। 
তাড়াশের মাধাইনগর গ্রামের বাসিন্দা সুশীল মাহাতো বলেন, ‘আদিকাল থেকে বংশপরম্পরায় সুখ-সমৃদ্ধি ও শক্তির দেবতা হিসেবে গোয়াল দেবতার পূজা করে আসছি। আগামীকাল বুধবার রাতে ঝুমুর নাচের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে।’ 

গুড়পিপুল এলাকার রঞ্জিতা মাহাতো জানান, কার্তিকের অমাবস্যায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কৃষিজীবী পরিবার চাষাবাদে ব্যবহৃত গরুর প্রতি যত্নবান হয়। মাধাইনগর এলাকার হরেন মাহাতোর ভাষ্য, হেমন্তকালে জমির কঠিন মাটিকে চাষযোগ্য করার জন্য ধর্মীয় রীতি মেনে তারা গবাদি পশুর যত্ন নেন। এ সময় গোয়াল পূজায় মনোনিবেশ করেন তাঁরা।
সোমবার অমাবস্যার রাতে বাতি জ্বালানোর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার গোয়ালঘরে পূজা দেওয়া হবে। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টিলাভে প্রার্থনা করা হবে। আতপ চালের সঙ্গে পাঁঠার মাথার মাংস দিয়ে রান্না হবে খিচুড়ি। সঙ্গে নানা ধরনের পিঠা দিয়ে চলবে পরিবার, স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়ন। পরবের শেষ দিনে ঢাক-ঢোল ও মাদলের সুরে ঝুমুর বা জাগরণ নৃত্যে মেতে ওঠে শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণির মানুষ। 

আরও পড়ুন

×