কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলসহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
শনিবার সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখাখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:০৪
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্টসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ীরা। শনিবার সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এ ঘোষণা দেন তারা। পটুয়াখালী জেলা ভ্যাট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার না করায় আগামী সোমবার সকাল থেকে এই ঘোষণা কর্যক্রম শুরু হবে বলে জানান কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভপতি এম.এ মোতালেব শরীফ।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ৮ অক্টোবর ‘হোটেল সৈকত’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে এসে সহকারী কমিশনার (ভ্যাট) এ কে এম জামিউল আলম ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে হোটেল সৈকতের ম্যানেজারের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন। ওই সময় হোটেল সৈকতের মালিক উপস্থিত না থাকায় ম্যানেজার হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন। সভাপতির কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে নিয়েও অশ্লীল ভাষা ব্যাবহার করেন এ কে এম জামিউল আলম।
বক্তারা আরও বলেন, কুয়াকাটা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ পর্যটন খাতের জন্য অশুভ সংকেত। অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাকে পটুয়াখালী জেলা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, হোটেল আল হেরা চেয়্যারম্যান মাইনুল ইসলাম মান্নান, কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি হোসাইন আমির, কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম.এ মোতালেব শরীফ বলেন, আমরা কুয়াকাটার সকল ব্যবসায়ীরা সঠিক সময়ে সরকারের ভ্যাট দিয়ে আসছি। এই ভ্যাট আদায় কালে অফিসার অশ্লীল ও বাজে মন্তব্য করে অন্যায় কাজ করেছেন। আমরা আগামী রোববারের মধ্যে তার প্রত্যাহার দাবি করছি। অন্যথায় সোমবার থেকে সকল হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ সকল ব্যবসায়ীরা তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতিতে নেমে যাবে।
এর আগে ওই কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে গত ১২ তারিখ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভ্যাট) এ. কে. এম. জামিউল আলম মোবাইল ফোনে সমকালকে জানান, আমরা ভ্যাট জরিপে কুয়াকাটা গিয়েছিলাম, কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করিনি। বরং হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
তবে অসদাচরণ ও মোবাইলফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, ঘটনাস্থলে রাজস্ব কর্মকর্তার উপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব কাউসার হামিদ বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত রয়েছি এবং জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে ভ্যাট পটুয়াখালী ও তার উর্ধতন কতৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
- বিষয় :
- পটুয়াখালী
- কুয়াকাটা
- আবাসিক হোটেল
