মাদ্রাসায় দুই পক্ষের মারামারি, ডিসির প্রত্যাহার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:২৭ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ফয়জুর রহমান বড় মসজিদ মাদ্রাসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারির জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার রাতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মাদ্রাসায় বিবদমান ছাত্র-শিক্ষকদের দুটি পক্ষের বৈঠকের পর হঠাৎ উত্তেজনা ছড়ায়। দুই পক্ষের মারামারিতে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. শহীদুল্লাহ আহত হন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি মো. সারোয়ার হোসেন জানান, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ শহীদুল্লাহকে একটি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা চড়াও হলে তিনি আহত হন।
ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম সোমবার রাত ১১টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা ছুটি ঘোষণা করেন। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশাসনের এ আদেশ অমান্য করে মাদ্রাসার কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ডিসির পক্ষপাতমূলক আচরণকে দায়ী করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, দুটি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি সমাধানের পথে। মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম জানান, সোমবার জামিয়ার পরিচালনা কমিটির সভায় মাদ্রাসার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আবদুল হক সাহেবের সব দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মুফতি আব্দুল হক ও হাফেজ শহীদুল্লাহ উভয়েই আর কোনো সমস্যা হবে না মর্মে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু দুঃখজনক, কিছুক্ষণ পর জানা যায়, হাফেজ শহীদুল্লাহ মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে রক্তাক্ত করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
- বিষয় :
- মারামারি
- মাদ্রাসা
- ময়মনসিংহ
- আধিপত্য বিস্তার
