রাস উৎসবে কুয়াকাটায় পুণ্যার্থী ও পর্যটকের ভিড়
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রাস উৎসব উপলক্ষে পুণ্যার্থী ও পর্যটকের ভিড়। ছবিটি বুধবার সকালে সৈকত থেকে তোলা সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার ভোর ৬টায় সৈকত-সংলগ্ন সাগরে এ গঙ্গাস্নান সম্পন্ন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় উলুধ্বনি ও মন্ত্র পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্নানের আগে সৈকতে মোমবাতি, আগরবাতি, বেল পাতা, ফুল, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল ও সিঁদুর সাগরের পানিতে অর্পণ করেন সনাতনী নারীরা। এ সময় অনেক মানতকারী মাথা ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিণ্ডদান করেন। এর আগে রাতভর কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজার্চনা, সংগীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তনে মেতে ওঠেন রাস উৎসবে যোগ দেওয়া পুণ্যার্থীরা।
সিলেটের বাসিন্দা রবিন কৃষ্ণ বলেন, ‘এই দিনে সকল পাপ মোচনের মুহূর্ত। তাই আমরা কুয়াকাটা এসেছি। রাতভর ভগবানের গুণকীর্তন শেষ করে সকালে সমুদ্রস্নানের মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি চেয়েছি।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্য দিয়ে রাস উৎসব শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্রস্নানের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। রাস পূজায় অংশ নিতে পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাস পূজা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও কুয়াকাটার শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সভাপতি কাজল বরণ দাস বলেন, পুণ্যার্থীরা সাগরকে সামনে রেখে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতার নীল কমল আর গঙ্গাদেবীর আরাধনায় মগ্ন হয়েছে।
কুয়াকাটা সৈকতে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সহসভাপতি নারায়ণ চন্দ্র হাওলাদার জানান, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই দেশে সবাই মিলে একটি সুন্দর লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে, যা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. কাউসার হামিদ বলেন, রাস উপলক্ষে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্য আলাদাভাবে মোবাইল টয়লেট, চেইঞ্জিং রুমসহ নানা আয়োজন ছিল প্রশাসনের। যে কারণে সবাই সুন্দরভাবে
রাস পূজা উদযাপন করেছে। পুরোপুরি এই আয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে থাকবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের আগমন ঘটেছে।
তাদের নিরাপত্তায় প্রায় চার শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে রাসমেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হবে।
- বিষয় :
- রাস উৎসব
