ভোলায় গ্যাসভিত্তিক সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৭ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে ইউরিয়া সারের ঘাটতি পূরণ, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও উপকূলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক সার কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গতকাল শুক্রবার ওই স্থান পরিদর্শন করেন সরকারের তিন উপদেষ্টা। এখানকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সম্ভাব্যতা তুলে ধরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
ভোলা সফরে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। দিনভর তারা ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা এবং বাফার গোডাউন নির্মাণ স্থল, বিসিক শিল্পনগরী ও শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র পরিদর্শন করেন। বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ভোলা জেলায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন’-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করেন। এতে প্রশাসনিক কর্মকতা, রাজনৈতিক নেতবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আদিলুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অনেক জায়গায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভোলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এই গ্যাসকে কীভাবে আমরা দেশের কাজে লাগাতে পারি, গ্যাস থেকে সার প্রস্তুত করতে পারি, তার সম্ভাব্যতা দেখছি। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ৩৪টি বাফার গোডাউন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি গোডাউন ভোলায় হচ্ছে এবং এর কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালে।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ভোলার গ্যাস দিয়ে ভোলায় শিল্পকারখানা করা হবে। বাইরে নেওয়া হবে না। সে কারণেই আমরা তিন উপদেষ্টা সরেজমিন এসেছি। এখানে সার কারখানা হবে, বেসরকারি শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। বিসিককে সচল করা হবে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু গ্যাসই যথেষ্ট নয়। এখানে শিল্পের সক্ষমতা তৈরি করতে গেলে আরও অনেক কিছুর প্রয়োজন। শিল্পের জন্য একটা বাজার দরকার হয়। কাঁচামালের দরকার হয়, শ্রমিকের দরকার হয়। ভোলায় বিনিয়োগ সক্ষমতা দিয়ে যথেষ্ট সুযোগ আছে। এ জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন।
তিন উপদেষ্টা অবরুদ্ধ
এদিকে সরকার ঘোষিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন তিন উপদেষ্টা। গতকাল বিকেলে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০ মিনিট পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে নিলে তারা স্থান ত্যাগ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল সেতুসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে আসছে ভোলাবাসী। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানসহ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মহিউদ্দিন ও সেতু সচিব ভোলায় এসে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের সঠিক সময় ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান স্থানীয়রা। এ সময় উপদেষ্টা বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর বিষয়টি পূর্বের ডিজাইনে করা সম্ভব নয়। তাই নতুন করে ডিজাইন করা হচ্ছে। এ ডিজাইনের কাজ আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলে এর পর কাজ শুরু হবে।
এ কথার পর সভা শেষে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তিন উপদেষ্টাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নিচে নেমে গাড়িতে ওঠার সময় গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন দুই যুবক। জনতা উপদেষ্টা ফাওজুল কবির ও শেখ বশিরের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে জেলা সার্কিট হাউসের উদ্দেশে চলে যান।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এর আগে একাধিকবার বলেছিলেন, ডিসেম্বরে ভোলা-বরিশাল সেতুর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। কিন্তু আজকের (শুক্রবার) সভায় বললেন আরও ছয় মাস পর সেতুর কাজ শুরু হবে। তিনি নিজের কথা রাখেননি, তাই আমরা পদত্যাগ দাবি করেছি।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, গ্যাস ও সেতুর দাবিতে কিছু মানুষ গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- সার কারখানা
- ইউরিয়া
- গ্যাস
