ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্কুলের রাস্তা বন্ধ করে স্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

স্কুলের রাস্তা বন্ধ করে স্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
×

স্কুলের রাস্তা বন্ধ করে স্থাপনা তৈরি করা হয়। ছবি: সমকাল

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:১৩ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:৪৮

চিলমারী উপজেলার রমনা পাত্রখাতা গ্রামের পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে বসতি গড়ে তোলায় এ পথ এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে পাঁচ বছর ধরে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। সমাধান না হওয়ায় শিক্ষকরা প্রতিবাদে সড়কের ধারে গাছতলায় ক্লাস নিয়েছেন দুদিন। 

সরেজমিন দেখা গেছে, পূর্বের যাতায়াতপথে এখন বসতি তৈরি হয়েছে। তাই সড়কের পাশে খোলা জায়গায় ক্লাস চলছে। খোলা জায়গা হওয়ায় গরমের দিন প্রখর রোদ আর বর্ষায় বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক অভিভাবক জানান, খাসজমি বন্দোবস্তের আইন অনুযায়ী সরকারি স্থাপনার পাশে বন্দোবস্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। এর পরও তথ্য গোপন করে বন্দোবস্ত নেন জাহাঙ্গীর। তাঁর পরিবারে প্রশাসনের কর্মকর্তা থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও সুম্মা জানায়, বাড়ির ভেতর দিয়ে ঘুরে স্কুলে আসতে হয়। পথে বড় বড় গর্ত। বর্ষায় সেখানে পানি জমে বিপদ তৈরি হয়। ছোটরা ভয়ে অনেক সময় স্কুলেই আসে না।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত স্কুলে শিক্ষার্থী দুই শতাধিক ছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়াপদা খালের বাঁধ দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতেন। কিন্তু খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করায় এ পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর পর থেকে শিক্ষার্থী কমেছে। বর্তমানে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলে পাঠদান। 

বিদ্যালয়ের জমিদাতা সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী স্কুলের জন্য ৩৫ শতাংশ জমি দান করেন। যাতায়াতপথ ছিল ৩১৩৫ ও ৩১৩৬ দাগের জমি ধরে। এর মধ্যে ৩১৩৬ দাগ ছিল সরকারি খাসজমি। ২০১৬ সালে জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে ওই দাগে জমি বন্দোবস্ত নেন। প্রভাব খাটিয়ে পাশের আরেক দাগের জমিও দখলে নেন। এভাবে ২১ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নিয়ে স্থাপনা গড়ে তোলায় স্কুলে যাওয়ার পথ পুরোপুরি আটকে যায়। এলাকাবাসী বাধা দিলেও কর্ণপাত করেননি। পরে ২০২৩ সালের ২০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ২৪ জুলাই শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ না হওয়ায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আবার অভিযোগ দেওয়া হয়। 

প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক শাহ্ আলম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঁধের পথ দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এখন সেটি পুরোপুরি বন্ধ। অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করতে হয়। কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। 

প্রধান শিক্ষক রিয়াদ বিন রানু বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ 

অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রাস্তা বন্ধ করিনি। তবে রাস্তার প্রয়োজন হলে জায়গা ছেড়ে দেব।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, ‘সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে স্কুলের রাস্তা বন্ধ করা দুঃসাহসিক কাজ। বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আমিও হিংসার শিকার হয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই স্কুলের রাস্তা বের করা হবে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, আপাতত নিকটবর্তী একটি বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিগগিরই রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×