জুলাই আন্দোলনে হামলা
ফরিদপুরের সেই আসামি ফয়েজ অবশেষে গ্রেপ্তার
শেখ ফয়েজ আহম্মেদ
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:১৯
ফরিদপুরে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি শেখ ফয়েজ আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শহরের গোয়ালচামট এলাকার শেখ মানিকের ছেলে।
গত বছর ৫ আগস্টের পর শেখ ফয়েজ দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে চলতি মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলনের ফরিদপুরের বিতর্কিত চার নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি শহরে ফিরে আসেন। এ ছাড়া তিনি জুলাই হামলার আসামি হয়েও সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৌশলে ‘সাহসী’ সাংবাদিকের পুরস্কার গ্রহণ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের আলীপুর গোলপুকুর ড্রিম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ফয়েজকে ধরে ফেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। পরে তাকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
ছাত্রনেতারা জানান, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ফরিদপুরের তথাকথিত সাংবাদিক শেখ ফয়েজ সরাসরি ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে থেকে ছাত্র-জনতার ওপর ফরিদপুরের হামলায় অংশ নেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ফরিদপুরের সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, সরকার কীভাবে এমন একজন আসামিকে পুরস্কৃত করে– আমরা হতবাক হয়ে যাই। ফরিদপুরের ছাত্র-জনতা এর মধ্যে মানববন্ধন করে ফয়েজের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জুলাই হামলার আসামিকে পুরস্কৃত করা জুলাইয়ে নিহতদের সঙ্গে বেইমানির শামিল।
তিনি বলেন, কীভাবে এমন মানুষ সমাজে এখনও ঘুরে বেড়ায়? আমরা আজ তাকে সামনে পেয়ে ধরে ফেলি। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ বলেন, ২৪ এর আন্দোলনে এই শেখ ফয়েজ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছে। সে ওই মামলার একজন আসামি। তার মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সাহসী সাংবাদিক পদক প্রদান করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি এবং প্রতিবাদ জানিয়েছি। এরপর ফরিদপুর প্রেস ক্লাব তাকে বহিষ্কারও করেছে। এত কিছুর পরও এই শেখ ফয়েজ প্রতিনিয়ত সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা সন্তুষ্ট।
এদিকে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নেতা এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যাচেষ্টা মামলার এই আসামিকে গত ১০ নভেম্বর একটি রেস্তোরাঁয় মতবিনিময় সভায় ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে দেখা যায়। সেখানে ফরিদপুর ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সন্বয়ক জনি বিশ্বাস, জেলা এনসিপির সদস্য হায়দার মোল্লা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তানিয়া আহম্মেদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠক তামিম হোসেন রনিসহ কয়েকজন উপস্থি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারপর থেকে দীর্ঘদিন পলাতক এই আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান।
এ বিষয় শহরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। জুলাই হামলার আসামি ফয়েজকে নিয়ে এমন কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেন ফরিদপুরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সাংবাদিক এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জুলাই হামলার একজন আসামিকে চার সমন্বয়কের এ কর্মকাণ্ড শহরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটি জুলাই আন্দোলনের পক্ষশক্তিকে বিব্রত করেছে। এখন আইন অনুযায়ী তাঁর ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ ফয়েজকে খুঁজছিল পুলিশ। পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
- বিষয় :
- ফরিদপুর
- জুলাই আন্দোলন
- মামলা
- গ্রেপ্তার
