নোয়াখালী সরকারি কলেজ
আট ভবনের ৬টিতেই ঝুঁকি
নোয়াখালী সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে জংধরা রড সমকাল
আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৃহত্তর নোয়াখালীর সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী সরকারি কলেজ। এতে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। ১৯৬৩ সালে লক্ষ্মীনারায়ণপুরে টিনশেড ভবনে কার্যক্রম শুরু হয় কলেজের। ১৯৯১ সালে এক কিলোমিটার দূরের মাইজদী বাজার এলাকায় স্থাপিত হয় নতুন ক্যাম্পাস। ওই ক্যাম্পাসের আটটি ভবনের মধ্যে ছয়টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।
ভূমিকম্পের কয়েকদিন পর সমকালের সঙ্গে কথা হয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইনাম, নুসরাত জাহান ঊর্মি ও শাহানাজ বেগমের সঙ্গে। তারা বলেন, প্রতি সপ্তাহেই শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। যতক্ষণ ক্লাসে থাকেন, ততক্ষণই থাকতে হয় আতঙ্কে। প্রতি মুহূর্তেই মনে হয়, এই বুঝি পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ছে। এভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়াই মুশকিল হয়ে যায়।
১৯৬৩ সালের ১ মার্চ ৪ একর ৫০ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি জাতীয়করণ হয় ১৯৬৮ সালে। লক্ষ্মীনারায়ণপুরের পুরোনো ক্যাম্পাসে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান করা হয়। মাইজদী
বাজারের নতুন ক্যাম্পাসে জমি ১৬ একর। সেখানকার আটটি ভবনে অনার্স, মাস্টার্স ও ডিগ্রি (পাস) কোর্সে পাঠদান করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় শিক্ষার্থী দুই সহস্রাধিক। ডিগ্রি (পাস) কোর্স, বিএ, বিএসএস, বিবিএস ও বিএসসি কোর্স; স্নাতকে (সম্মান) শিক্ষার্থী ২০ হাজারের মতো। তবে দীর্ঘ ৬২ বছরেও এখানে জনবল ও শিক্ষকের সংকট কাটেনি। সমাধান হয়নি অন্যান্য সমস্যারও।
উদ্ভিদবিদ্যার চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞান ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই পলেস্তারা খসে আমাদের গায়ের ওপর পড়ে। ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের পর থেকে শ্রেণিকক্ষে চরম আতঙ্কে থাকি। ভয়ে অনেক সহপাঠী ক্লাসে আসছে না।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের ছাত্রী নিলুফা খন্দকারের ভাষ্য, এমনিতে প্রতিদিনই তাদের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকে। কিন্তু ভূমিকম্পের পর থেকে উপস্থিতি অর্ধেকে নেমেছে। সবার মনেই ভবন ধসে পড়ার আতঙ্ক।
রসায়ন বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ বলেন, বিজ্ঞান ভবনসহ কলেজের সব ক’টি একাডেমিক ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ।
কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ পড়েন সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। তিনি বলেন, তাদের একাডেমিক ভবনটি পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের পর থেকে তাদের বিভাগে শিক্ষার্থী উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। যতক্ষণ ক্লাসে থাকেন, ততক্ষণই আতঙ্কে থাকেন।
এসব সমস্যার কথা স্বীকার করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক শাখার পুরোনো টিনশেড ভেঙে নতুন ভবন হচ্ছে। নতুন ক্যাম্পাসের আটটি ভবনের মধ্যে ছয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। একাডেমিক ভবনগুলোর শ্রেণিকক্ষে প্রায়ই পলেস্তারা খসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের। বর্ষায় দীর্ঘ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সীমানা প্রাচীর না থাকায় কলেজ ক্যাম্পাসটি অরক্ষিত। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার নাজমুল ইসলামের ভাষ্য, ওই কলেজের পুরোনো ক্যাম্পাসে সাততলার একটি একাডেমিক ভবন ও পাঁচতলা ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসের ছয় তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মিত হবে। প্রাথমিকভাবে একতলা নির্মাণের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আরও কিছু ভবনে শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু করবেন।
- বিষয় :
- কলেজ
