ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছয় ডিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ

উপাচার্যের কাছে নিরাপত্তা চাইলেন রাবির শিক্ষকরা

শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি

উপাচার্যের কাছে নিরাপত্তা চাইলেন রাবির শিক্ষকরা
×

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৬ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি ছয় ডিনের পদত্যাপত্র গ্রহণ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। পাশাপাশি নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি তোলা হয়। গতকাল সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের সভাকক্ষে বৈঠকটি হয়। এতে বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও জিয়া পরিষদ অংশ নেয়। 

অন্যদিকে শিক্ষকদের সঙ্গে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ অছাত্রসুলভ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। 
পদত্যাগ করা ছয় ডিন হলেন– আইন অনুষদের আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ড. নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক ড. এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের এ এইচ এম সেলিম রেজা।

উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করছে। তারা কার্যালয়ে তালা দিচ্ছে, চাপ সৃষ্টি করছে। এটি কোনো ছাত্রের দায়িত্ব না। রাকসুর নামে এগুলো করা হচ্ছে। 

উপাচার্যের কার্যক্রমে ক্ষোভ জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি সবসময়ই এটি করেন। তবে তিনি কোনো কাজ করেন না।’ 
বৈঠকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. মাঈন উদ্দিন ও অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। 

ছয় ডিনের রুটিন দায়িত্বে উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্য
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই ছয় ডিনকে অপসারণের পর তাদের স্থলে রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মাদ মাঈন উদ্দীন ব্যবসায় শিক্ষা ও আইন অনুষদের এবং উপ-উপাচার্য‌ (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ভূ-বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দায়িত্বে থাকবেন। 

২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ডিন নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি হলুদ প্যানেল থেকে ওই ছয় শিক্ষক নির্বাচিত হন। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়। তবে উপাচার্য গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিজ পদে বহাল থাকার নির্দেশনা দেন।

এরই মধ্যে ওই ছয় ডিনের পদত্যাগের দাবিতে আলটিমেটাম দেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। আলটিমেটাম অনুযায়ী রোববার সকালে তিনি রাকসু ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তিনি ডিনদের জন্য পদত্যাগপত্র লিখে নিয়ে আসেন। তিনি ডিনদের ফোন করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পদত্যাগপত্র উপস্থাপন করেন। 
পরে একদল শিক্ষার্থী তিন ডিনের কার্যালয়, উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ সব প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন দুই উপ-উপাচার্য। পরে সন্ধ্যায় উপাচার্যের সঙ্গে এক বৈঠকে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান ছয় ডিন। 

রাকসু জিএসের আচরণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলল ছাত্রদল 
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ অছাত্রসুলভ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল বলে অভিহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানান। 

এতে বলা হয়, রাকসু জিএসের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থি। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে বারবার শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল।
ছাত্রদল নেতারা বলেন, জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘তালা ঝোলানো’ সংস্কৃতি আমাদের ফ্যাসিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এর আগে আম্মার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যসহ এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। এর মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষক সমাজকে অপমান করা হয়। 

আরও পড়ুন

×