ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জে শীত এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে মাটি লুটেরা চক্র

হবিগঞ্জে শীত এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে মাটি লুটেরা চক্র
×

বাহুবল উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়নাবাদ এলাকায় মঙ্গলবার কৃষিজমির মাটি কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন সমকাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষিজমি শুধু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অথচ হবিগঞ্জ জেলায় প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই মাটি লুটেরা চক্র কৃষিজমির প্রাণ উর্বর টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও চুনারুঘাট উপজেলায় প্রতিদিন কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করছে সংঘবদ্ধ চক্র।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, হবিগঞ্জের চার উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাটি কাটা হচ্ছে। এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে মাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র দামে টপ সয়েল কিনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইটভাটা ও ব্যক্তিগত স্থাপনায় বিক্রি করা হচ্ছে কয়েক গুণ দামে। এদিকে ফসলি মাঠে এক্সক্যাভেটর ও ট্রাক্টরের অবাধ ব্যবহারে কৃষিজমির উর্বরতা ধ্বংসের পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অভিযোগ উঠেছে, মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ মধ্যস্বত্বভোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে কৃষকদের ঠকিয়ে সহজেই অতিরিক্ত লাভবান হচ্ছেন মাটিখেকোরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের শেরপুর, কেশবপুর, ঋষিপাড়া এলাকা থেকে নিয়মিত মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। তারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি ট্রাক্টর টপ  সয়েল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনে ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করে।
শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরার এলাকার বাসিন্দা শিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, তাদের এলাকার কৃষিজমি থেকে প্রতিদিন মাটি তুলে ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। এতে কিছু বললে, তারা টাকা দিয়ে মাটি কিনে বিক্রি করছে বলে জানায়। বাহুবলের জয়নাবাদ গ্রামের রাজু মিয়া বলেন, তাঁর এলাকায় প্রতিদিন ৮-১০টি ট্রাক ও ট্রাক্টর মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত থাকে। কৃষিজমি থেকে মাটি কাটায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা সহযোগিতা করায় কেউ কিছু বলেনা।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, হবিগঞ্জ জেলার নদী, হাওর ও কৃষিভিত্তিক পরিবেশ ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ মোকাবিলা করছে। নির্বিচারে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা হলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা কমে যাবে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে।

হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, কৃষিজমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং খাদ্য উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। কৃষিজমি থেকে এক্সেক্যাভেটর দিয়ে মাটি তোলা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
বাহুবল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলাম বলেন, মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেককে জরিমানা করা হচ্ছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম জানান, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসন কঠোর রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হোসেন বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×