জমি অধিগ্রহণ না করে বুড়ি তিস্তা খনন, আনসার ক্যাম্প ভাঙচুর
ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা খননকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর করা আনসার ক্যাম্প সমকাল
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা নদীতে জলধারা খননকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রকল্প এলাকার অস্থায়ী আনসার ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি লুট করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে বুড়ি তিস্তা নদীর কুটির ডাঙ্গা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদী খনন কাজের প্রস্তুতি নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে এবং সরকারি ছুটির দিনে খননের কথা শুনে এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে পাউবো সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আনসার সদস্যদের থাকার অস্থায়ী কক্ষ, অফিস, আসবাব ভাঙচুর করে। ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন সামগ্রী, সদস্যদের পোশাক, ব্যক্তিগত মালপত্র ও তাদের ১০ রাউন্ড শটগানের গুলিও লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রকল্পে ব্যবহৃত সাতটি এক্সক্যাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আনসার সদস্য, ঠিকাদারের প্রতিনিধি, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী নিয়ে গঠিত ‘জনগোষ্ঠী’ নামে সংগঠনের মুখপাত্র আব্দুল আলিমের ভাষ্য, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশের মানুষ শোক পালন করছে। এমন সময় বুড়ি তিস্তা নদী খনন করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দের আইনি জটিলতায় ফেলতে আদালতে মামলা থাকার পরও কাজ শুরু করতে চেয়েছিল পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোনো ধরনের জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়া তিন ফসলি জমিতে খননকাজ শুরু করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার পরিবার বাস্তচ্যুত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী উপস্থিত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিইনি। ফলে সেখানে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা কাছাকাছি অবস্থিত আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিকও রয়েছেন।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, শুধু অধিগ্রহণ করা জায়গায় জলাধার পুনর্খনন করা হচ্ছিল। কিছু ব্যক্তি জায়গাটি দখল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এক হাজার ২১৭ একর জমির মধ্যে ৬৬৭ একরে খননের কাজ হবে। এতে কৃষকরা স্বল্প খরচে সেচের সুবিধা পাবেন এবং পরিবেশ রক্ষা হবে। পরিকল্পিত এ হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আনসার সদস্যদের ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই করা হয়েছে। এটি বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় তিন দিন খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও কেন কাজ শুরু করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।
- বিষয় :
- জমি উদ্ধার
