এজেন্ট ব্যাংকে জমা টাকা নিয়ে ব্যবস্থাপক উধাও
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার কয়রায় ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকের জমা প্রায় ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবস্থাপক পালিয়ে গেছেন। ২২ ডিসেম্বর থেকে ওই শাখায় অনুপস্থিত তিনি। ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহ উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি ছেলেকে খুঁজে আনার দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী ফাহিমা বিবি জানান, তাঁর বাড়ি মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামে। প্রবাসে শ্রমিকের কাজ করেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফেরেন। বাড়ির পাশে হওয়ায় দক্ষিণ বেদকাশীর ঘড়িলাল বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় তিন মাস আগে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জমা রাখেন। হঠাৎ টাকার প্রয়োজন পড়ায় ২২ ডিসেম্বর ওই শাখায় গিয়ে জানতে পারেন, টাকা নেই। পরে খোঁজ নিয়ে শুনেছেন, ম্যানেজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
ফাহিমা বিবি বলেন, ‘বাড়ির পাশে ইসলামী ব্যাংকে বিশ্বাস কইরে টাকা রাখিছিলাম। কিন্তুক তারা গরিব মানষির বিশ্বাস ভেঙে ফেলাইছে।’
তাঁর মতো বেশ কয়েকজন গ্রাহক টাকা তোলার জন্য চেক দিয়ে জানতে পারেন, তাদের ব্যাংক হিসাবেও টাকা নেই। বিষয়টি জানতে পেরে ওই এজেন্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ফজলুর রহমান ৩০ ডিসেম্বর সেখানে আসেন। তাৎক্ষণিক তিনি ৭৫ লাখ টাকা গরমিলের হিসাব দেন। এ সময় গ্রাহকরা তাঁর কাছে টাকা ফেরতের দাবি করলে তিনি ১০ দিন সময় নিয়ে জায়গা ছেড়ে যান। বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলেও তিনি ধরেননি।
মাটিয়াভাঙ্গা জান্নাতুল জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার সাইফুল গাজী বলেন, ‘আমাগে এলাকা থেকে কয়রা সদরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এর আগে কষ্ট কইরে কয়রা সদরের ব্যাংকে টাকা জমা রাখতাম। গত বছর এলাকার বাজারে ইসলামী ব্যাংকের শাখা হওয়ায় খুশি হইছিলাম। সেখানে মসজিদ ফান্ডের ৬৫ হাজার টাকা জমা রাখছি। ঘটনা জানতে পেরে খোঁজ নিয়া দেখি, মসজিদের টাকাও নিয়ে গেছে ম্যানেজার। বিষয়টি ম্যানেজারের বাবা জামায়াতের আমির সাহেবকে জানাইছি।’
বক্তব্যের জন্য মোস্তাকিম বিল্লাহর মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিয়ে সংযোগ মেলেনি। তাঁর বাবা ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান বলেন, ‘অনেকেই এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। মোস্তাকিম আমার ছেলে হলেও সে আলাদা সংসার করে। সে এজেন্ট ব্যাংকের টাকা নিয়ে গেছে কিনা, তা ওই এজেন্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ভালো বলতে পারবেন।’
দক্ষিণ বেদকাশী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি খোকন বলেন, গ্রাহকদের প্রাথমিক অভিযোগে ৭৫ লাখ টাকার (গরমিলের) হিসাব পাওয়া যায়। পরে এমন অভিযোগ আরও পাওয়া গেছে। সে হিসাবে গ্রাহকদের এক কোটি টাকারও বেশি নিয়ে পালিয়েছেন ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহ। তাঁর বাবা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান ছেলেকে খুঁজে আনার চেষ্টা করবেন বলে দায়িত্ব নিয়েছেন।
- বিষয় :
- টাকা আত্মসাৎ
