ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
×

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:২২

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো শীতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটি জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অনেকেই জানান, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য, ভোরে মাঠে নামলেই হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। মনে হয় যেন ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের তাগিদে কাজের খোঁজে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে।

তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

শীতের দাপটে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে কোচিং যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম, এখন শীতের কারণে সম্ভব হয় না। হেঁটেই যেতে হচ্ছে। হাঁটলে শরীর কিছুটা গরম হয়, তবে হাত-পা বরফ হয়ে যায়। শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, বেলা ১১টার আগে খুব একটা ক্রেতার দেখা মিলছে না। শীতের প্রভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান বলেন, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

×