মানিকগঞ্জে হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, দুই আনসার সদস্য কারাগারে
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৩:০৬
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্বামীকে আটকে রেখে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আনসার সদস্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার আসামিদের মানিকগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ তোলা হয়। বিচারক মু. হাবীবুর রহমান ও সজীব চৌধুরীর উপস্থিতিতে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এর পর দুই আনসার সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
ওই দুই আনসার সদস্য হলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ।
এর আগে রোববার রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সে রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর সঙ্গে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে মানিকগঞ্জের বেতিলায় এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন ওই নারী। পথে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য তারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। হাসপাতালের ফটকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাত ও সাঈদ তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ভেতর নিয়ে যান। পরে স্বামীকে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। সোমবার সকালে অভিযোগ পেয়ে শাহাদাত ও সাঈদকে আটক করে পুলিশ। ওইদিন রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এ বি এম তৌহিদুজ্জামান সুমন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন সমকালকে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন জানান, আদালতে আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। আসামিরা পুলিশের কাছে ধর্ষণের দায় স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দিতে সরাসরি ধর্ষণের দায় স্বীকার করেননি। ভুক্তভোগী নারী সুস্থ হলে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেবেন।
এদিকে আজ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গণসংযোগ শাখা থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট, অভিযুক্তদের অনৈতিক ও নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অপরাধ। এর দায়ভার কোনোভাবেই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শ বা শৃঙ্খলার ওপর বর্তায় না। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব থেকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
