পিলারে আটকে আছে চারতলা ভবন নির্মাণ
নান্দাইল উপজেলার আউলিয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
পিলারেই আটকে আছে নান্দাইলে আউলিয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মাণকাজ। কাজ শুরুর পর ইতোমধ্যে দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই ভবন নির্মাণকাজ গতি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষ বলছে, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও ওই ঠিকাদার নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজে বিলম্ব করছেন। অথচ মাদ্রাসার একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে কোনোমতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের আউলিয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৫৬ সালে ৮০ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শুরু থেকেই একটি টিনশেড ঘরে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চলে আসছে। শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অনেক আবেদনের পর মাদ্রাসার জন্য একটি চারতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
ময়মনসিংহের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ১ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসার একটি চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ভবন নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ‘দিশা বিল্ডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই ভবন নির্মাণের কাজ পায়। উদ্বোধনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বদিউজ্জামান আকন্দ নোমান ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু ভবনটির কাজ সম্পন্ন হওয়া দূরে থাক, দুই বছরে শুধু নিচের পিলার নির্মাণ করতে পেরেছেন।
গত ১১ জানুয়ারি দুপুরে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, ফাউন্ডেশনের ওপর শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে আরসিসি পিলারগুলো। কোথাও কোথাও সামান্য তিন ফুট ওয়াল করা হয়েছে। পিলারের ওপরে থাকা রডগুলোয় মরিচা ধরেছে। নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরের মাটি উঁচু-নিচু হয়ে আছে। অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে রয়েছে একটি বড় ধরনের গর্ত। তার পাশেই একটি ভাঙা টিনশেড ঘরে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন নির্মাণকাজ পাওয়া দিশা বিল্ডার্সের মালিক বদিউজ্জামান আকন্দ নোমান বলেন, ভবন নির্মাণের বরাদ্দের টাকাসহ মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত অনেক ঝামেলা থাকায় কাজ একটু ধীরগতিতে চলছে। এ ছাড়া অন্যান্য ঝামেলার কারণে কাজ বন্ধ ছিল, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই আবার কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
আউলিয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আপ্তাব উদ্দিনের ভাষ্য, ভবন নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন। তাগাদা দিয়েছেন ঠিকাদারকেও। তিনি একের পর এক বলে যাচ্ছেন শুরু করবেন, কিন্তু কাজ আর শুরু করছেন না।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (নান্দাইল) অরুণ চন্দ্র দাস জানান, তিনি ওই ঠিকাদারকে কয়েকবার তাগিদ দিয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য তাগাদা দিয়ে ঠিকাদারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন একসময় বরাদ্দের সমস্যা ছিল, তবে সেই সমস্যা অনেক আগেই কেটে গেছে।
- বিষয় :
- মাদ্রাসা
