প্রচারণা ঘিরে চার জেলায় উত্তেজনা, আহত ২৫
পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও বিএনপি জোট প্রার্থী নুরুল হক নুরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহতরা। ছবি: সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৫৩ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ঘিরে নোয়াখালী, দিনাজপুর ও পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং দুটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ে ব্যানারে আগুন দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের সোনাইমুড়ী উপজেলার ভোরের বাজারে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। এতে তাঁর তিন সমর্থক আহত হয়েছেন। আসবাব ভাঙচুর করা হয়। গতকাল রোববার বেলা সোয়া ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের বাজারে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে সভা চলছিল। সড়ক দিয়ে ধানের শীষের ৮-১০ কর্মী যাওয়ার সময় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা কাপ-পিরিচের সমর্থকদের ধাওয়া করে। একই সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, দুপক্ষে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। এক পর্যায়ে প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুরে ধানের শীষ কার্যালয়ে হামলা
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপির পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দলারদরগা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিক হামলার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বিএনপির কর্মীরা জানিয়েছেন, দলারদরগা বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে থিম সং বাজাচ্ছিলেন। এ সময় জামায়াত-শিবিরের ১৫০-২০০ নেতাকর্মী জনসংযোগ করতে আসে। তারা থিম সং বন্ধ করতে বলে। তা না করায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গলাচিপায় সংঘর্ষে আহত ১০
পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র ও বিএনপি জোট প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের সমর্থকদের দুটি মিছিল মুখোমুখি হয়। উভয় পক্ষে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
পঞ্চগড়ে ব্যানারে আগুন
পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মুহম্মদ নওশাদ জমিরের নির্বাচনী ব্যানারে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট নওফেল জমির বলেন, শনিবার রাতে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়ন এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানারে আগুন দেয়। এতে ব্যানারগুলো পুড়ে যায়।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নোয়াখালী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও গলাচিপা প্রতিনিধি)
