ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে এনসিপি প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে এনসিপি প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা
×

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ। ছবি: সমকাল

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:৫৯

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যতিক্রমী এক কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। আজ 
রোববার সকালে শহরের কলেজ রোড এলাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত পৌরসভার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রীতম দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলবাসীর সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের নাম এই ভাগাড়। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন এর কারণে। শীর্ষ গণমাধ্যমে এ নিয়ে লাগাতার সংবাদ প্রকাশের পরেও সমাধান করেনি সংশ্লিষ্টরা। জনগণের এই কষ্টের অংশীজন হিসেবে তিনি এই ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। নির্বাচিত হলে এখান থেকেই শুরু করবেন সমাজ বিশুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া।  দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানেরও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রীতম বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকারের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাঁকে ১৩১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই চা শ্রমিক, আদিবাসী, কৃষক, যুবক ও নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রীতম দাশ বলেন, তাঁর রাজনীতি মানুষের জন্য। শ্রমিক, কৃষক, যুবক, নারী, আদিবাসীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার। ইশতেহারে চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে আদিবাসী ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সবার জন্য মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনেরও ঘোষণা দেন এনসিপির এই নেতা। একই সঙ্গে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করেন প্রীতম দাস।

নিজের ইশতেহারে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানিকে কঠোরভাবে দমন, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো, পৌরসভা সম্প্রসারণ, শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর, যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন এনসিপি প্রার্থী।
কৃষকদের জন্য সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, আধুনিক বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালু, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক গঠনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের জন্য ওয়ান স্টপ ইয়ুথ সেন্টার, ডিজিটাল হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান, হোমস্টে ও ইকো-কালচারাল ট্যুরিজম উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রীতম দাশ।

তিনি আরও বলেন, ইমাম, পুরোহিতসহ সব ধর্মীয় নেতার রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং মসজিদ-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধার করা হবে।

প্রীতম জানান, অতীতে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আজও অবহেলিত। সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করাই তাঁর লক্ষ্য। পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি শাপলাকলি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন

×