ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফটিকছড়ি

ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত ও বিএসপি

ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত ও বিএসপি
×

ছবি-সংগৃহীত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ আসনে জমজমাট ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এ আসনে প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। এ আসনের পরিসংখ্যান ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিন দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

চট্টগ্রাম-১২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবং বিএসপি ও বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী। 

দেশের সংসদীয় আসনের মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় এলাকা ফটিকছড়ি। উপজেলা ফটিকছড়ি ও ভুজপুর থানা নিয়ে এই সংসদীয় আসন গঠিত। ফটিকছড়ি উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন। 

পরিসংখানে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে অধিকাংশ নির্বাচনে জিতেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। এরশাদ আমলে একবার এ আসনে জয়ী হন জাসদ প্রার্থী। এছাড়া তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী দুইবার এমপি হলেও প্রতিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ে নির্বাচনে জিতেছেন। দু’বারই জোটের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। 

ভোটারদের ভাষ্য, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার আলোচনায় নেই। এক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনের মাঠে এগিয়ে আছেন। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী দলটির চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ নুরুল আমিন তাঁকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নুরুল আমিনের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ‘ফুটবল’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ কবির করিম। এতে নির্বাচনের মাঠে আরও এগিয়েছে গেছেন অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। 

এদিকে সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক তিনটি দল নিয়ে জোট গড়েছেন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী। এ ছাড়া মাইজভান্ডার দরবার শরিফের অনুসারীরা তাঁর পক্ষে থাকায় নির্বাচনের মাঠে তিনিও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী ভোটাররা যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়বেন নির্বাচনে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। 

বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির মাটি বিএনপির জন্য উর্বর। গত ১৬ বছর ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। এ কারণে তাঁর বিশ্বাস, সবকিছু বিবেচনা করে জনগণ তাঁকে বিজয়ী করবে। 

১১ দলীয় জোটপ্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। প্রচার-প্রচারণায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। দলের নেতাকর্মীরাও অনেক উজ্জীবিত। সব মিলিয়ে তিনি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। 

বিএসপি প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী বলেন, যদি ভোট গ্রহণের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, তাহলে নির্বাচনে তিনি জয়ী হবেন।
 

আরও পড়ুন

×