ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফরিদপুর-৪ আসন

ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী

ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
×

স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ। ছবি: ফেসবুক

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:২১

বিএনপির প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হুমকিধমকির অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ। এ অবস্থায় ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভোটের মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে দাবি তাঁর। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি।

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগের অভিযোগ, তাঁর কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের হুমকিধমকি, হেনস্তা, হামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে চরভদ্রাসন উপজেলায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সারোয়ার হোসেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেন মুজাহিদ বেগ।

জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী বলেন, তাঁর আসনের নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত। প্রতিদিন তাঁর সমর্থকদের হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের একটি হাসপাতালেও বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন বাড়িতে গভীর রাতে সশস্ত্র অবস্থায় ডিবি পরিচয়ে হানা হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর কর্মীরা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে, সে জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নির্বাচনের পর কেউ ঘরে থাকতে পারবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

এজেন্টদেরও হুমকিধমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এই প্রার্থী। তাঁর ভাষ্য, ফুটবলের কোনো এজেন্ট যেন কেন্দ্রে যেতে না পারেন, তার জন্য যা যা করার সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে আসছে, তিনি যেন এজেন্ট দিতে না পারেন।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ। তাঁর মতে, সদরপুরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্র, ভাঙ্গা উপজেলার মহেশ্বরদি মৌজার কেন্দ্র, ভাঙ্গা সদরের সবগুলো কেন্দ্র, ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের সব কেন্দ্র, চরভদ্রাসন সদর ও হরিরামপুর ইউনিয়নের সব কেন্দ্র ও চরাঞ্চল সব কেন্দ্র বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রশাসন যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ করা কোনোভাবেই সম্ভব না। তাঁর আশা, প্রশাসন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ থেকে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। বরং মুজাহিদ বেগের পক্ষে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীর লোকজন কালো টাকা ছড়াচ্ছে।’

নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা।

তাঁর ভাষ্য, চারটি আসনে ৭১৬ জন সেনা সদস্য ও কর্মকর্তা, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। এ ছাড়া ৮৭ ইউনিটে ৮৭টি ডেডিকেটেড ফোর্স রয়েছে। প্রতিটি ফোর্সে সাতজন পুলিশ সদস্য ও ১০ জন আনসার সদস্য রয়েছে।

আরও পড়ুন

×