ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের তরুণ ভোটার

‘ভোট যে এত আনন্দের, আগে জানতাম না’

‘ভোট যে এত আনন্দের, আগে জানতাম না’
×

চট্টগ্রামে ভোট দিতে পেরে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৩০

‘বড়দের মুখে ভোট নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। তবে ভোট দেওয়া যে এত আনন্দের, তা আজ বুঝলাম। মনে হচ্ছে, দেশের জন্য ছোট হলেও একটা বড় দায়িত্ব পালন করলাম।’ তর্জনীতে গাঢ় বেগুনি কালির দাগ দেখিয়ে এভাবেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী সুমাইয়া সাবিহা মিম।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কেন্দ্রে মায়ের সঙ্গে ভোট দিতে আসেন মিম। শুধু তিনি নন, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনেই নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে এমন উচ্ছ্বাস। 

সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে তরুণদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। মিম যখন বুথ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তার চোখে-মুখে ছিল নাগরিকত্বের পূর্ণতা পাওয়ার তৃপ্তি। তার মা বলছিলেন, সকালে মিমই আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তাড়া দিয়েছে। নতুন প্রজন্ম যদি এভাবে সচেতন হয়, তবেই গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হবে।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রবর্তক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। চট্টগ্রাম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস ইকবাল একা নন, বন্ধুদের পুরো দল নিয়ে এসেছেন ভোট দিতে। লাইনে দাঁড়িয়ে খুনসুটি আর সেলফিতে মেতে ছিলেন তারা। ভোট শেষে নাফিস বলেন, এবার পরিবেশ একদম শান্ত। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। আমরা চাই সবসময় এমন পরিবেশই থাকুক। সত্যি বলতে, ভোট দেওয়াটা আমাদের কাছে উৎসবের মতো লাগছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের নতুন ভোটার নুসরাত জাহানের কাছে নির্বাচন মানেই ছিল আগে টিভিতে দেখা টানটান উত্তেজনার খবর। তবে বাস্তবের অভিজ্ঞতা তাকে চমকে দিয়েছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারা যে কত বড় অধিকার, তা আজ কেন্দ্রে এসে বুঝতে পারলাম।

নগরের প্রতি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটাররা নিয়ম মেনে সারিবদ্ধভাবে ভোট দিয়েছেন। অনেক তরুণ ভোটারকে দেখা গেছে, ভোট দেওয়ার পর আঙুলের কালি দেখিয়ে ছবি তুলতে। 

আরও পড়ুন

×