ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আঁতুড়ঘরেও বাতাসশূন্য হাতপাখা

আঁতুড়ঘরেও বাতাসশূন্য হাতপাখা
×

সুমন চৌধুরী, বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫১ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠার ৩৯ পর কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম জয় পেল চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের আঁতুড়ঘরে কাঙ্ক্ষিত সেই জয়টি আসেনি। এমনকি, দলটির প্রতিষ্ঠাতা পীর পরিবারের তিনজন প্রার্থীর কেউ এবং দলের দায়িত্বশীলরাও জয়ী হতে পারেননি। অন্য দলের স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রিয় নেতাদের ভোটের আগে দলে ভেড়ালেও তারাও জয় পাননি। হাতপাখা প্রতীক একমাত্র জয়টি পেয়েছে দেশের দক্ষিণের শেষপ্রান্ত সাগরতীরের জেলা বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে। আগের সব নির্বাচনে একটানা জয় পাওয়ায় এটি আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে চিহ্নিত।
বরিশাল নগরীঘেঁষা কীর্তনখোলার পূর্ব তীরে চরমোনাই ইউনিয়ন। চরমোনাই দরবারের তৎকালীন পীর সৈয়দ ফজলুল করীম ১৯৮৭ সালে গঠন করেছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, যেটি ২০০৮ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়। ফজলুল করীম ২০০৫ সালে মারা গেলে তাঁর সন্তানরা দলের হাল ধরেন। দলটির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বরিশাল হলো তাদের আঁতুড়ঘর। সারাদেশের মধ্যে বরিশাল বিভাগে সাংগঠনিক শক্তিও বেশি। বিভাগের অন্তত পাঁচটি আসনে তাদের জয়ের প্রত্যাশা ছিল।

জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পীর দলের আমির হবেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। বর্তমান পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের এক ভাই দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম দলের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর অন্য ভাইয়েরাও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পীর পরিবারের তিন ভাই চারটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ফয়জুল করীম, অন্য দুই ভাই দলের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছাহাক আবুল খায়ের বরিশাল-৪ মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঢাকা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে একমাত্র ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনে বিজয়ীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন। অন্যদিকে, বরিশাল-৬ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ৫২ হাজার ২৬৪ ভোট কম পেয়ে ফয়জুল করীম তৃতীয় হন।

এক কেন্দ্রে হার আলোচনায়
২০০২ সালের ইউনিয়ন নির্বাচনে চরমোনাইর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এরপর ধারাবাহিক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তাঁর দুই ভাই। যে কোনো নির্বাচনে চরমোনাইতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে এ ইউনিয়নে ধানের শীষের চেয়ে পাঁচ হাজার ১৭৮ ভোট বেশি পেয়েছে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা। তারপরও একটি কেন্দ্রে হাতপাখা ধানের শীষের অর্ধেক ভোট পাওয়ায় আলোচনায় এসেছে। রাজারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে এক হাজার ৭৬ ভোট ও হাতপাখা পেয়েছে ৫৭৩ ভোট। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ভোটের দিন এই কেন্দ্রে মজিবর রহমান সরোয়ার পীর অনুসারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। কেন্দ্রটি পীরের বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে।

ফয়জুল করীমের নির্বাচনী মিডিয়া সেলের প্রধান নাসির উদ্দিন নাইস সমকালকে বলেন, বরিশাল-৫ আসনে জামায়াত প্রকাশ্যে পীর পরিবারের সম্মানে প্রার্থী দেয়নি। কিন্তু গোপনে হাতপাখাকে হারানোর সব ষড়যন্ত্র করে সফল হয়েছে। স্থানীয় বেশির ভাগ জামায়াত ভোট দিতে যায়নি। যারা গেছেন, তারা অন্য মার্কায় ভোট দিয়েছেন।

বরগুনায় চমক
স্বাধীনতা পরবর্তী সবকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছে। এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় আটঘাট বেঁধে নেমেছিল বিএনপি। বৃহৎ এ দলটির প্রার্থীকে চার হাজার ১৪৬ ভোটে হারিয়ে চমক দেখিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের জেলা উপদেষ্টা মো. মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন এক লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট। এর আগের নির্বাচনগুলোতে এখানে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান থাকত চতুর্থ বা তার নিচে।
দলের ভরাডুবি সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব এছাহাক আবুল খায়ের বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার আগে হিসাব করে কোন দল ক্ষমতায় যাবে। তাই তারা ‘এ’ দল বা ‘বি’ দলকে বেছে নেয়। আমরা যারা ‘সি’ দলের মধ্যে তাদের বেলায় হিসাব করে– ওরা ক্ষমতায় যাবে না, তাই এমপি বানিয়ে লাভ কী হবে। এসব কারণে আমাদের প্রার্থীরা হেরেছেন।

আরও পড়ুন

×