ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মায়ের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ের কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য

মায়ের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ের কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য
×

মোহাম্মদ সাগর খান

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর মায়ের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ের কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য। ৪৬তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডার এবং ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন টাঙ্গাইলের তরুণ মোহাম্মদ সাগর খান।

মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামের অটোরিকশা চালক আকবর খানের ছেলে মোহাম্মদ সাগর খান। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাগর খান দ্বিতীয়।
জানা গেছে, অটোরিকশা চালক বাবার স্বল্প আয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা সাগর ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী। কহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে রাজাপুর কহেলা বাহরাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ঢাকা সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। সংসারের অভাব-অনটন থামাতে পারেনি তাঁকে। এসএসসি পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছাড়াই কুপি ও হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করেছেন তিনি। অনেক সময় কেরোসিন না থাকায় দিনের আলোতেই পড়া শেষ করতে হয়েছে। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের ২ জুলাই ওয়ান ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি পান সাগর। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের মাত্র ৯ দিনের মাথায় মারা যান তাঁর মমতাময়ী মা সেলিনা বেগম। শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রস্তুতি চালিয়ে যান সাগর। অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।

সাগরের এই অর্জনে গর্বিত তাঁর পরিবার। তাঁর বাবা আকবর খান বলেন, সাগর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবা করে একজন আদর্শ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক।
মোহাম্মদ সাগর খান জানান, ছোটবেলা থেকেই দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। একটি জিনিসকে বেছে নিয়েছেন, সেটি হচ্ছে শিক্ষা। মানুষকে যদি বড় হতে হয় কিংবা সমাজের জন্য করতে হয় শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘সব সময় একটি বিষয় বিশ্বাস করতাম, দারিদ্র্য কখনও মানুষকে থামিয়ে রাখতে পারে না। কারও যদি প্রবল ইচ্ছা থাকে, সে দারিদ্র্যকে জয় করতে পারবে। আমারও সেই ইচ্ছাশক্তি থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়শোনা করতে পেরেছি। যদিও আমি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, তবে আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। কারণ আমি দেখতাম মানুষ তাদের সাধ্যমতো যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার দরকার সেটি তারা পাচ্ছে না।’

রাজাপুর কহেলা বাহরাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ আব্দুল খালেক জানান, সাগর শুধু তাদের বিদ্যালয়ের নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দারিদ্র্যকে হারিয়ে তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
 

আরও পড়ুন

×