সড়কবাতির পিলারে পোস্টার বাঁশে এখনও ঝুলছে ব্যানার
ঝিনাইদহ শহরের অগ্নিবীণা সড়কের সড়কবাতির পিলারে ঝুলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী কাঠের ফ্রেম করা পোস্টার। ছবিটি সোমবার দুপুরে তোলা সমকাল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা, কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীদের নির্বাচনী পোস্টার, বিলবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশ দিয়ে। সড়কবাতির পাইপেও ঝুলছে কাঠের ফ্রেমে স্থাপন করা কাপড়ের পোস্টার। ভোট গ্রহণের ৯৬ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার ঝিনাইদহ শহর ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র। প্রচারসামগ্রী অপসারণ করেননি প্রার্থীরা। ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশাসন বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকেও। এতে ক্ষুব্ধ জনসাধারণ।
নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ধারা ১৯-এ বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণ সম্পন্নের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যবহৃত নিজ নিজ প্রচারণা সামগ্রী প্রার্থী নিজ দায়িত্বে অপসারণ করবেন। ভোট গ্রহণ শেষের ৯৬ ঘণ্টা (সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা) পেরিয়ে গেলেও ঝিনাইদহ-২ আসনের বেশির ভাগ এলাকা থেকে অপসারণ হয়নি প্রচার সামগ্রী।
শহরের অগ্নিবীণা সড়ক, হাটের রাস্তা, ৩ নম্বর পানির ট্যাঙ্কপাড়া, শহীদ মিনারের গোলচত্বর, ব্যাপারিপাড়া, মডার্ন মোড়সহ অধিকাংশ পাড়ামহল্লায় গাছে-বাঁশে-দড়িতে ঝুলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ মিনার গোলচত্বর এলাকার পথচারী রবিউল ইসলাম বলেন, ভোট শেষ হয়েছে কয়েকদিন হয়ে গেলো। তবুও প্রচারসামগ্রী অপসারণ হয়নি। পায়রা চত্বর থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত প্রতিটা সড়কবাতির নিচে প্রার্থীদের পোস্টার ঝুলছে। এগুলো শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করে।
জেলা গণশিল্পী সংস্থার সভাপতি আব্দুস সালামের মতে, এটি প্রার্থীদের অসচেতনতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে। যত্রতত্র থাকা প্রচারসামগ্রী পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পরাজিত প্রার্থী (হাতপাখা) এইচ এম মোমতাজুল করিম বলেন, ‘প্রচারসামগ্রী অপসারণে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। কাজ চলছে।’
জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, যে কারণে আমরা ব্যথিত। এ জন্য প্রচারসামগ্রী সরাতে দেরি হয়েছে। দ্রুতই অপসারণে ব্যবস্থা নেবো।’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় প্রচারসামগ্রী অপসারণে একটু দেরি হয়েছে। অল্প সময়েই সব অপসারণ করা হবে।’
ঝিনাইদহ-২ আসনে জয়ী জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, তিনি শপথ গ্রহণের জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন। ফিরে এসে বিস্তারিত কথা বলবেন।
ঝিনাইদহ সদরের ইউএনও ও এই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, প্রার্থীদের তো নিজ উদ্যোগে এসব অপসারণের কথা। ব্যানার-পোস্টারসহ প্রচারসামগ্রী অপসারণে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যদের বলে দেবেন।
- বিষয় :
- পোস্টার
