ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সহিংসতা

নড়াইলে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

৬ জন আহত, এর মধ্যে একজনকে কুপিয়ে জখম

নড়াইলে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:৫৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গত শুক্রবার বিকেল থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কাফনের কাপড় পাঠিয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় দরজার বাইরে তালা দিয়ে এক ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আট জেলায় ১০টির বেশি আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জেলার ১৮টির বেশি আসনে সহিংসতায় একজন নিহত ও অন্তত ১৪২ জন আহত হন।

সংঘর্ষ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হুমায়ুন মোল্যার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিলডুমুরতলায় এ ঘটনা ঘটে। 

হুমায়ুনের পরিবারের দাবি, ধানের শীষের সমর্থক রিয়াজুল ইসলাম টিংকুর সমর্থকরা তাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন। তবে টিংকু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এর আগে দুই দফায় ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার হবখালীর বাগডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কলস প্রতীকের সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থক আশরাফুল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধানের শীষের সমর্থকরা কলস প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এতে তাদের পাঁচজন আহত হন। ওই রাতেই স্বতন্ত্র কলস প্রতীকের সমর্থক হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন মোল্যার একটি ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

আশরাফুলের অভিযোগ, নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় আতিয়ারের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাগডাঙ্গা বাজারে বসে থাকা অবস্থায় ২০-২৫ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালীর বাড়িতে কাফনের কাপড় ও হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ সময় বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার পর ওই ইউনিয়নের এখলাছপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুন্না ঢালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

মুন্না ঢালী বলেন, হঠাৎ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে তিনি প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দেন। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

মতলব উত্তর থানার এএসআই মনিরুজ্জামান মনির জানান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে।

দরজার বাইরে তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর গ্রামে সোমবার গভীর রাতে দরজার বাইরে তালা দিয়ে এক ছাত্রদল নেতার বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহনাট্যবিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের গ্রামের ওই বাড়িতে তাঁর বাবা মো. বেলাল মিয়া থাকতেন। তবে সোমবার রাতে তিনি ওই ঘরে ছিলেন না। একদল দুর্বৃত্ত আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সাতক্ষীরায় ককটেল বিস্ফোরণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর এলাকার ভেটখালী সংযোগ সড়কে সোমবার রাত ২টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাত ২টার দিকে ঈশ্বরীপুর সড়ক ধরে আসা চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে থাকা লোকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা ভেটখালীর দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অবিস্ফোরিত একটি ককটেল, পোড়া টায়ারসহ সরকারবিরোধী একটি ব্যানার উদ্ধার করে।

শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা স্থানীয় একজনকে মারধর করেছে।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মল্লিক নাসিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিউদ্দিন মল্লিকের ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার তাকরিমুল হক নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তিনি ইন্দুরকানী উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। হামলার ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

(সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×