নজরখালী ফসলরক্ষা বাঁধ
৯ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে নজরখালী ফসলরক্ষা বাঁধ। ছবিটি গতকাল শুক্রবার হাওরের গোলাবাড়িসংলগ্ন এলাকা থেকে তোলা সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী ও নাওটানা ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ করা না হলে সর্বস্বান্ত হতে হবে স্থানীয় কৃষকদের। এমন বার্তা দিয়ে ওই দুটি বাঁধের কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর প্রত্যাশী এই অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা। বোরো চাষিদের শঙ্কা–এবার হয়তো জলে ভাসবে হাজারো কৃষকের সোনার ফসল। সে ক্ষেত্রে গোটা অঞ্চল ব্যাপক খাদ্য ও অর্থ সংকটে পড়বে।
চলতি অর্থবছরে তাহিরপুর উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৮৮টি প্রকল্পে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বোর্ডের অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নজরখালী বাঁধ না থাকায় তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৮২টি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে হাতাশা দেখা দিয়েছে। এতে চার ইউনিয়নের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ বাঁধের কারণে গনিয়াকুরি, এরালিয়াকুনা, নান্দিয়া, রাঙামাটিয়া, ফলিয়ার বিল, সামসাগর, রুপাভূই, লামারবিল, সোনাডুবি, করছরি, লুঙ্গাতুঙ্গা, শালদিগা, হানিয়া কলমা, মুক্তারখলা হাওরের সব ধান আগাম পানিতেই তলিয়ে যাবে।
মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের রংচি গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘নজরখালী বাঁধ নির্মাণ না হলে বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ–এ দুই ইউনিয়নের সব বোরো ধান আগাম বন্যায় ভেসে যাবে। অনেক বছর ধরেই প্রশাসন এ বাঁধের কাজ করে আসছে। গত তিন বছর ধরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন টাঙ্গুয়ার হাওরটিকে জলাভূমির সনদ দিয়ে বাঁধের কাজ করাচ্ছেন না।’
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক খসরুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের জন্য হলেও নজরখালী বাঁধটি জেলা প্রশাসন কেন বাধা দিচ্ছে তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মধ্যনগর উপজেলার রংচি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন কেন কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করছে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। এখানে কী চলছে তা জানা দরকার। তিনি আরও বলেন, নজরখালী বাঁধের ভেতরে ৮০ ভাগ জমিই পড়েছে মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুণ্ডা ইউনিয়ন ও দক্ষিণ বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৃষকদের। টাঙ্গুয়ার হাওরপারের ৮২ গ্রামের কৃষকদের দাবি, নজরখালী বাঁধটি নির্মাণের।
সূত্র জানায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমির দোহাই দিয়ে কোনো সময়ই সরকারিভাবে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রতি বছরই প্রশাসন থেকে একটি থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। থোক বরাদ্দের টাকা দিয়ে উত্তর বংশীকুণ্ডা ইউনিয়ন ও দক্ষিণ বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতি বছর বাঁধটি নির্মাণ হয়ে থাকে। এবারও যেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে থোক বরাদ্দের টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।
তাহিরপুর ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি কেউ জানালে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে উদ্যোগ নেবেন।
- বিষয় :
- ফসলি জমি
