ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দারিদ্র্যজয়ী ফুসনারা এখন অন্যের আস্থা

দারিদ্র্যজয়ী ফুসনারা এখন অন্যের আস্থা
×

উন্নয়ন সংস্থার দেওয়া গবাদি পশুর যত্ন নিচ্ছেন তাহিরপুরের ফুসনারা সমকাল

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

দরিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করাই ছিল যার নিত্যজীবনের প্রধান কাজ। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সেই ফুসনারা এখন ব্যস্ত গবাদি পশুপালন ও সবজি বাগানের কাজে। এভাবেই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন তাহিরপুর এপির সার্বিক সহায়তায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ওই বাসিন্দা। 

প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানান, স্বামীর স্বল্প আয়ে চলত ফুসনারার সংসার। প্রতিদিনই অর্থকষ্ট, অভাব-অনটনে বিপর্যস্ত ছিল ফুসনারার পরিবার। স্বামীর অল্প আয়ই ছিল জীবন-জীবিকার একমাত্র মাধ্যম। তা ছাড়া ভাঙাচোরা ঘরে শীত-বর্ষা সব মৌসুমেই ভোগান্তি ছিল চরমে। দৈনিক আহারের নিশ্চয়তা যেখানে ছিল না সেখানে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবাটাই বিলাসিতা তাঁর কাছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফুসনারার দিকে হাত বাড়ায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। সংস্থাটি তাঁকে সহায়তা হিসেবে একটি গরু দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণে যুক্ত করে। বর্তমানে দারিদ্র্যজয়ী ফুসনারার দেওয়া অনুদান আর উপহারের গবাদি পশুতে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকে।  

বর্তমানে ফুসনারার রয়েছে একটি গরু, একটি বকনা বাছুর, পাঁচটি ছাগল, ছয়টি চীনা হাঁস, একটি রাজহাঁস ও ১০টি মুরগি।  সম্প্রতি তিনি এক হতদরিদ্র পরিবারের নারীর হাতে একটি ছাগল তুলে দেন। আনন্দঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি যেমন সহায়তা পেয়ে আজ স্বাবলম্বী, তেমনি অন্যদের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে চাই।’
ফুসনারা বেগমের এ উদ্যোগ অন্যকে সফলতার পথে এগিয়ে দেওয়ার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। এলাকার স্থানীয়রা বলেন, সঠিক সহায়তা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো বাধা ডিঙানো যায়। ফুসনারা তার আদর্শ উদাহরণ। তাহিরপুর ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার মহসিন খান বলেন, ফুসনারা এখন যে অন্যকে ছাগল উপহার দিয়ে সাহায্য করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। 

আরও পড়ুন

×