১ মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল ৯ হাজার থেকে ৬১ হাজার
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রবাসীর বাড়িতে প্রতি মাসে হাজার টাকার নিচে বিদ্যুৎ বিল আসে। সপরিবারে দেশে এসে মাসখানেক বাড়িতে ছিলেন বলে গত জানুয়ারি মাসে বিল আসে ৯ হাজার ২৬৭ টাকা। পরিবারটি ফিরে যাওয়ার পর তিনটি বাতি ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকলেও ফেব্রুয়ারির বিল এসেছে ৬১ হাজার ১০ টাকার।
ঘটনাটি জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের তালুকদার পাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোরশেদ তালুকদার বাড়ির। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন তিনি। গত ডিসেম্বরে সপরিবারে দেশে আসেন এবং বাড়িতে এক মাস থেকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তিনি যখন বাড়িতে আসেন, তখন ৪টি বৈদ্যুতিক পাখা, ৭টি বাতি, একটি ফ্রিজ ও একটি টেলিভিশন ব্যবহার হয়। বাড়িতে না থাকলে শুধু বাইরের ৩টি বাতি জ্বলে। জানুয়ারি মাসে তিনি সপরিবারে বাড়িতে ছিলেন। বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ৮০০ ইউনিট। বিল হয়েছে ৯ হাজার ২৬৭ টাকা। তার আগে ডিসেম্বরে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক বিল পরিশোধ করেন ৮৭২ টাকা। অথচ ফেব্রুয়ারি মাসে বিল দেওয়া হয়েছে ৬১ হাজার ১০ টাকার। বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ ইউনিট।
গত সোমবার প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের মিটারে ৪ হাজার ৯২৯ ইউনিট রিডিং দেখা যায়। অথচ দাখিল করা বিলে ৮ হাজার ৮৮০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। কেবল প্রবাসী মোরশেদ তালুকদারই নন, দুই-তিন মাস ধরে একই অবস্থা কালাই উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের কয়েক হাজার গ্রাহকের। তাদের দাবি, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।
কালাই পৌরশহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা কাজী তানভিরুল ইসলাম জানান, সাধারণত তাঁর মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। ডিসেম্বর মাসে বিল আসে ৮১০ টাকা, সেখানে জানুয়ারি মাসে বিল এসেছে ৩ হাজার ১১০ টাকা। এই বিষয়ে জানতে চেয়েও বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের কাছে সঠিক ব্যাখ্যা পাননি; বরং উল্টো তারা বলেছেন, অনেক আগের পাওনা এই বিলে যোগ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও কীভাবে আগের বিল এই বিলের সঙ্গে যোগ হয়। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ।
একই ধরনের অভিযোগ করেন পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামের আব্দুল কাফি। তাঁর ভাষ্য, প্রতি মাসে তাঁর ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ২২৫ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি। তাদের গ্রামের সব গ্রাহকেরই চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে।
সড়াইল, আঁওড়া ও ধুনট গ্রামের তিন গ্রাহক জানান, মিটার রিডিংয়ে ভুল গণনার কারণে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়েও সমাধান মিলছে না; বরং উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
প্রবাসী মোরশেদ তালুকদারের বাড়ির কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুল বিল ঠিক করে দিয়েছে অফিস। ৬১ হাজার ১০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৭ টাকার সংশোধনী বিল করে দিয়েছে।
কালাই চাল-কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ জানান, বিদ্যুতের বাড়তি বিলের বিষয়টি কয়েক মাস ধরে চলছে। অনেক সময় অফিসে অভিযোগ করলেও সংশোধনের উদ্যোগ দেখা যায় না। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে।
অধিকাংশ গ্রাহকের অভিযোগ, মিটার রিডিংয়ের ভুল অথবা অনিয়মিত রিডিংয়ের কারণে হঠাৎ বিল বেড়ে দ্বিগুণ থেকে ছয়গুণ পর্যন্ত হচ্ছে। এর বাইরে মিটারের কোনো ত্রুটির কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে
পারে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালাই জোনাল কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পল্লী বিদ্যুতের ৪৭ হাজার ১০ গ্রাহক রয়েছেন। এ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য ৮৭৭ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ। ২০২৫ সালের জুন থেকে ৩০ ডিসেম্বর কালাই কার্যালয় ৭ কোটি ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকদের সরবরাহ করেছে। চলতি মাস থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভুল রিডিংয়ের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিল বাড়ার আশঙ্কা তারাও করছেন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে ভুল সংশোধন করা হচ্ছে।
কালাই জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার কিছু অভিযোগ পান তারা। কিন্তু বিল বেশি করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কারণে ভুল হলে তা ধরা পড়ার পরপরই সংশোধন করে দেন। তারা চেষ্টা করছেন, যাতে নির্ভুল হিসাব অনুযায়ী বিল আসে। এক মাসের ব্যবধানে এক প্রবাসীর বাড়ির বিল ছয় গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আসলেই ভুল হয়েছে, গ্রাহক অফিসে আসা মাত্র তাঁর বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎবিল
