মারধর করে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়, অপমানে বিষপানে ‘আত্মহত্যা’ যুবকের
আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সবুজ
স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ২০:৫৪
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সবুজ নামে এক অটোচালককে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে চুরির অভিযোগে মারধর ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, অপমান সইতে না পেরে বাড়িতে গিয়ে বিষপান করেন সবুজ। সোমবার রাতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সবুজ (৩০) উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বালিহারি গ্রামের হুমায়ুন কবির খানের ছেলে। তাঁর পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
সবুজের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, গতকাল সোমবার সকালে চৌকিদার হানিফ মিয়া ‘কথা আছে’ বলে তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় দোকানি রুবেল হোসেন ও চৌকিদার হানিফ মিয়া মিলে তাঁকে বেদম মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে রেহাই পেতে সবুজ চুরির কথা স্বীকার করে লিখিত দিতে বাধ্য হন। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শানু মেম্বারের সামনেই এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাত। তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি নিয়ে কাগজে সই নেওয়া হয়েছে। সেই লজ্জা সইতে না পেরে সে বিষ খেয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
সবুজের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, তাঁর স্বামী অটোরিকশা চালাত। সে চুরি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল না। তাঁর স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে আমার স্বামী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি তাদের শিশু সন্তানের মাথায় হাত রেখে স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি চুরি করেছেন কিনা। তাঁর স্বামী তাঁকে জানান, তিনি চুরি করেননি।
উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের চৌকিদার মো. হানিফ মিয়া দাবি করেন, সবুজ গ্রামের কয়েকটি দোকান থেকে চুরি করেছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁকে পরিষদে ডেকে আনা হয় এবং সেখানে তিনি স্বেচ্ছায় লিখিত স্বীকারোক্তি দেন। কোনো মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শানু মিয়া বলেন, ‘সবুজ পরিষদে এসে চুরির কথা স্বীকার করেছে। লিখিত নেওয়া হয়েছে। মারধরের প্রশ্নই ওঠে না।’ বিষপানের বিষয়ে তিনি বলেন, সবুজ বাড়িতে গিয়ে বিষপান করেছে এবং হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পিরোজপুর
- বিষপানে আত্মহত্যা
