সমকালের সাংবাদিকের ওপর হামলা: যুবদলের ৪ নেতা বহিষ্কার
ফাইল ছবি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ২১:৩৭
চত্বরে ঢুকে শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি ও দৈনিক সমকালের শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি সামিউল আযম মনিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দুই স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে হামলার ঘটনায় শ্যামনগর উপজেলার যুবদলের চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় সংগঠন। একই সঙ্গে আগের দিন গ্রেপ্তার দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন– শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ ও বাবলুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম।
সমকালের সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সকালে সাতক্ষীরা নিউমার্কেট চত্বরে ও শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, সময় টেলিভিশনের মমতাজ আহমেদ বাপি, ৭১ টেলিভিশনের বরুণ ব্যানার্জি, ডিবিসি নিউজের বেলাল হোসেন, যমুনা টেলিভিশনের আকরামুল ইসলাম, এখন টেলিভিশনের আহসানুর রহমান রাজিব, এশিয়ান টেলিভিশনের মশিউর রহমান, সমকালের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কিশোর কুমার, জেলা জাসদের সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ আবু কওছার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার আফজালুর রহমান, আবু সাঈদ, আনিসুর রহমান, আব্দুল কাদের, রণজিৎ বর্মণ, হুসাইন বিন আফতাব, এস এম মিজানুর রহমান, মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, সীমান্ত প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম ইমন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ রুবেল।
হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে বালু লুট’ শিরোনামে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা শ্যামনগর প্রেস ক্লাব চত্বরে ও কার্যালয়ে ঢুকে সামিউল মনিরের ওপর এই নির্মম হামলা চালিয়েছে। এই হামলা কলম সৈনিকদের ওপর ন্যক্কারজনক আঘাত। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান তারা।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সামিউল আযম মনির জানান, ঘটনার দিন সোমবার রাতে ১৪ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করেন তিনি। মামলার আসামিরা হলেন– শ্যামনগর থানার নকিপুর গ্রামের আব্দুর রহমান বাবু, আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, জহুরুল হক আমু, হাফিজ আল আসাদ কল্লোল, আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহিম, দাঁদপুর গ্রামের আলমগীর, হায়বতপুর গ্রামের বাবলু গাজী, বাদঘাটা গ্রামের আলমগীর হোসেন, কাটামারি গ্রামের মিজান কাটা, খানপুর গ্রামের আবু তালেব, সৈয়দাল্লীপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান মাফু, বড় কুপাট গ্রামের চঞ্চল ও ভৈরবনগর গ্রামের ইমাম হোসেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধন করে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা। ওই সময় সামিউল মনির ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ নেতাকর্মী প্রেস ক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি মনিরের ওপর হামলা চালায়। আহত অবস্থায় তাঁকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর আজ সকালে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঘটনার পরপরই সোমবার পুলিশ দুজনকে আটক করে।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান সমকালকে জানান, এ ঘটনায় সামিউল আযম মনির বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি সমকালকে বলেন, সমকালের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমকালের শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি সামিউল মনিরকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
