ইউএনও পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করায় জনমনে ক্ষোভ
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বকশীগঞ্জ ইউএনও আবদুল হাই পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘরমুখো প্রত্যেক যাত্রীকে ২০০ থেকে ২৯০ টাকা বাড়তি বাস ভাড়া গুনতে হবে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়াও জনপ্রতি ৩০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। গত সোমবার উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় এমন সিদ্ধান্ত দেন ইউএনও।
আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত এ ভাড়া কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়। ইউএনওর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব, মেরুরচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু প্রমুখ।
জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে জামালপুর, শেরপুর ও রৌমারী উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। বকশীগঞ্জ থেকে রৌমারী উপজেলার দূরত্ব ৪৯ কিলোমিটার। নিয়মিত ভাড়া ১৫০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে ১৫০ টাকার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। বকশীগঞ্জ থেকে জামালপুর সদরের দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। নিয়মিত ভাড়া ১০০ টাকা। এখানে ৩০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩০ টাকা। বকশীগঞ্জ থেকে শেরপুর সদরের ভাড়া ছিল জনপ্রতি ৬০ টাকা। ৪০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০ টাকা।
বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক দূরপাল্লার বাস ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করে। বকশীগঞ্জ থেকে ঢাকার বাস ভাড়া গাড়ির শ্রেণিভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৯০ টাকা। এতে ১৯০ থেকে ২৯০ টাকা বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের।
সামাজিক মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির একটি তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় বইছে। ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে পৌর বিএনপির সভাপতি আনিছুজ্জামান গামা লিখেন, পণ্যের আমদানি বেশি হলে দাম কমে, যাত্রী বেশি হলে ভাড়া কমার কথা, বাড়বে কেন? আবদুস সাত্তার জিহাদী নামে একজন বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন কর্মজীবী মানুষ। বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় অনেকেই হিমশিম খান।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স জানান, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিজেই ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর ভাড়া বৃদ্ধির প্রশ্নই আসে না। অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান তিনি। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লবের ভাষ্য, উপজেলায় মিটিংয়ের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আলোচনার বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। সিদ্ধান্তের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, পরিবহন ও বাজার মনিটরিং বিষয়ে সভা হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভাড়া বাড়ানো নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা আসেনি। জামালপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবু নাইম বলেন, পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই বা ওপর থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বিআরটিএর জানা নেই।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ জানান, পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া যাতে আদায় না করে সে বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে ২-৩ দিনের মধ্যে একটি সভা করা হবে।
- বিষয় :
- ভাড়া বৃদ্ধি
