দৌলতপুরে জোড়া খুন
পারিবারিক বিরোধে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পরিবারিক বিরোধ ও অর্থ-সম্পদ থেকে বঞ্চিত করায় ক্ষোভ থেকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অন্তঃসত্ত্বা ভাবি ও শিশু ভাতিজাকে হত্যা করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে মূল অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাসহ তাঁর ভাগ্নে সুমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ মোল্লা পুলিশকে এ তথ্য জানান। গতকাল বুধবার বিকেলে মা ও ছেলের হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও দৌলতপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকার মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউসুফ মোল্লা সম্পর্কে নিহত গৃহবধূ আমেনার দেবর। তিনি ঢাকায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে ইউসুফ মোল্লা সাভারে তাঁর বোনের বাসায় ভাগ্নে সুমন হোসেন ও সবুজকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে কাচারীপাড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন ইউসুফ। ওই বাড়িতে ইউসুফের বড় ভাই স্থানীয় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আবদুস সালাম ও তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুন এবং তাদের ১৫ মাস বয়সী সন্তান আসওয়াদ থাকতেন।
গত ৩০ মে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ইউসুফ তাঁর ভাবি আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। কিছুক্ষণ পর আবদুস সালাম বাড়িতে এলে তাঁকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ইউসুফ পালিয়ে যান। পরে আবদুস সালামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় গত রোববার নিহত আমেনার মা মিনা খাতুন বাদী হয়ে ইউসুফকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে আসামিরা পুলিশকে বলেছেন, বোন ও ভাগ্নেরা বাড়িতে এলে নিহত আমেনা তাদের খাতির যত্ন করতেন না। এ ছাড়া বাঁচামারা বাজারের দোকানের অর্থ ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা থেকে ভাবি ও শিশু ভাতিজাকে ইউসুফ হত্যা করেন। এতে সহযোগিতা করেন তাঁর দুই ভাগ্নে সুমন ও সবুজ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাতুড়ির মধ্যে একটি আগেই বাড়িতে ছিল এবং সেটি ইউসুফের কাছে ছিল। অপরটি ভাগনে সবুজ কিনে আনেন। হত্যার সময় ওই দুটি হাতুড়ি ব্যবহার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- খুন
