উপবৃত্তির তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গবরীকুড়া একে উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছে দশম শ্রেণির উপবৃত্তি বঞ্চিত ১২ শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছে শিক্ষার্থী জুনাইদ, ইয়ার হোসেন, রবিন, সানজিদ, শাওন, শাজাহান, সাজিল, আরিফ, ইয়াসিন, ফাহিম, শুভ ও রাতিম। অভিযোগে বলা হয়, গবরীকুড়া একে উচ্চ বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় যে তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে দশম শ্রেণির ৭০ জন শিক্ষার্থীর নাম নেই। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা বহিরাগত এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী না।
শিক্ষার্থী শাজাহান জানায়, তার বাবা দরিদ্র চা দোকানি। উপবৃত্তি পেলে তার পড়াশোনা এগিয়ে যেত। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, কৃষি বিষয়ের শিক্ষক জুলফিকার হায়দার ও কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক এ এফ এম মাহবুবুল ওয়াহেদ রুহেল স্বজনপ্রীতি করে অনুপস্থিত শিক্ষার্থী ও আত্মীয়দের উপবৃত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করেছেন।
কয়েকজন দরিদ্র অভিভাবকের অভিযোগ, ওই তিন শিক্ষকের অনিয়মের কারণে সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা উপবৃত্তি পাচ্ছে। দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত সরকারি বিধি মোতাবেক যোগ্য ও প্রাপ্য শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা।
এর আগে একই বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষা ফি নিয়েও ফরম পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার আগের দিন ১৭ জনের প্রবেশপত্র না আসায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তৎপরতায় এবং ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় রক্ষা পায় ১৬ শিক্ষার্থী। একজন পরীক্ষায় বসতে পারেনি।
কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক এ এফ এম মাহবুবল ওয়াহেদ রুহেলের ভাষ্য, তিনি ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত ফরম পূরণ, রেজিস্ট্রেশন ও উপবৃত্তির কাজ করেছেন। তখন কোনো অভিযোগ ছিল না। এরপর কর্তৃপক্ষ তাঁকে এসব কাজ করার সুযোগ দেননি। এ সময় দায়িত্ব দেন কৃষি বিষয়ের শিক্ষক জুলফিকার হায়দারকে। তাঁর সময়েই ফরম পূরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সাল থেকে তিনি আবার দায়িত্ব পেয়েছেন, এখন কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।
কৃষি বিষয়ের শিক্ষক জুলফিকার হায়দার জানান, দুই বছর ধরে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তাই উপবৃত্তি নিয়ে কিছু বলতে পারবেন না। তাঁর সময়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের ভাষ্য, কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। রেজিস্ট্রেশন করা ৫৪ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির তালিকা আছে। কিন্তু তারা টাকা পায়নি।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- উপবৃত্তি
