গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতির হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে ছিল রাস্তার পাশে
কামরুজ্জামান মোল্লাহ
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ২০:৪৫
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লাহকে (৬৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাস্তার পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকার একটি রাস্তার পাশ থেকে কামরুজ্জামান মোল্লাহর লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
তিনি মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা গ্রামের প্রয়াত ইদ্রিস আলীর ছেলে। ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি কামরুজ্জামান সুজনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানান সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির। ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জানাজা শেষে কামরুজ্জামানের লাশ গাজীপুরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্বজনরা জানান, মামলা সংক্রান্ত একটি কাজে বুধবার সকালে বাসা থেকে বের হন তিনি। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম হয়নি। আদালত থেকে বাসায় ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় স্বজনরা নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। পরে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধারের খবর জানায় পরিবারকে।
গাজীপুর মহানগর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রাত ১২ টার আগে কোনো এক সময় কামরুজ্জামান মোল্লাহকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধে হত্যার পর হাত পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকার রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেয় । পরে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠাই।
সুজনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির সমকালকে বলেন, কামরুজ্জামান মোল্লাহ একজন প্রবীণ মানুষ। তারপরও আমাদের সংগঠনের জন্য নিবেদিত ছিলেন। দায়িত্বশীল ছিলেন। নৃশংসভাবে তাকে এভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মহানগরের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমরা খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। তিনি ব্যবসা করতেন, কারও সঙ্গে লেনদেন নিয়ে ঝামেলা ছিল কিনা, বাসা ভাড়া নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কিনা এসব নানা বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কাজ শুরু করেছি।
- বিষয় :
- সুশাসনের জন্য নাগরিক
- সুজন
- হত্যা
