ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রৌমারী-চিলমারী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

বালুচরে আটকা কুঞ্জলতা-কদম ২০ জেলার মানুষের ভোগান্তি

বালুচরে আটকা কুঞ্জলতা-কদম ২০ জেলার মানুষের ভোগান্তি
×

রৌমারী উপজেলার ফলুয়ারচর ঘাটে নাব্য সংকটে আটকে থাকা দুটি ফেরি সমকাল

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর ব্রহ্মপুত্র নদে রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিস চালু হলেও বর্তমানে তা মৃতপ্রায়। নাব্য সংকটের অজুহাতে গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। এতে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০টি জেলার ঢাকা যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিড়ম্বনা। বর্তমানে ফেরি দুটি ঘাটে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

সাশ্রয়ী পথ এখন বিড়ম্বনার নাম
রৌমারী প্রান্ত দিয়ে ময়মনসিংহ ও ঢাকা এবং চিলমারী প্রান্ত দিয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের যানবাহন যাতায়াত করত। ফেরি সচল থাকলে ঢাকার দূরত্ব কমে যায় প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। ট্রাকচালক ফরিদ মিয়া ও হামিদুল ইসলাম জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় ও জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে পণ্য পরিবহন ব্যয়। ফলে সোনাহাট স্থলবন্দরের পাথরসহ বিভিন্ন কাঁচামাল পরিবহনে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
বিআইডব্লিউটিসির তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে ফেরি সার্ভিসের কার্যকারিতা দিন দিন কমছে। ২০২৩ সালে ১০৪ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছিল ৯৭ দিন। ২০২৪ সালে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে ২৪১ দিন, বন্ধ ছিল ১২৫ দিন। ২০২৫ সালে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ২১৮ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে মাত্র ৬৮ দিন। বর্তমানে নাব্য সংকট চরমে পৌঁছানোয় এবং চ্যানেলে পলি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফেরি ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ রৌমারী প্রান্তে পন্টুনের সঙ্গে চরাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

চিঠির স্তূপ থাকলেও নেই কার্যকর ড্রেজিং
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নাব্য সংকট নিরসন ও ড্রেজিংয়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএকে অন্তত আটবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবুও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজ-কলমে ড্রেজিং দেখানো হলেও বাস্তবে নদী খননের কোনো কাজ হয় না। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও বালুচর জেগে ওঠা এই রুটের স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।  
ফেরি বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে যাত্রীদের নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এতে একদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় যাতায়াতে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি। চিলমারী রমনা ঘাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ফেরি বন্ধ হওয়ায় তাদের বেচাকেনাও প্রায় বন্ধের পথে।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী-রৌমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক নূরন্নবী সরকার জানান, নিয়মিত ড্রেজিং হলে এবং চারটি ফেরি চালু করলে এই রুটটি অত্যন্ত লাভজনক হওয়া সম্ভব। 
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর পাল বলেন, ‘প্রতিদিন ড্রেজিং করা হচ্ছে; কিন্তু নদীর প্রকৃতির কারণে নাব্য ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। আগামী এপ্রিল বা মে মাসের আগে ফেরি চালু করা সম্ভব হবে না।’
 

আরও পড়ুন

×