দক্ষ জনবলের অভাব, অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেড় কোটি টাকার অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি স্থানান্তরে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করার কথা। অথচ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তা পড়ে আছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের পেছনে খোলা জায়গায়। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হওয়া ছাড়াও খোয়া যাচ্ছে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রপাতি।
জানা গেছে, বিশেষায়িত এ অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত চালক ও দক্ষ মেডিকেল টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। বর্তমানে এই ধরনের জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যাচ্ছে না। জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
জামালপুর জেলার ২৬ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। এই জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ থাকলেও নেই সংযুক্ত হাসপাতাল। যে কারণে মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয় ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে; যা জামালপুর শহর থেকে ৬০ ও ১৮০ কিলোমিটার দূরে। ওইসব হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে ২ থেকে ৫ ঘণ্টা। ফলে অনেক সময় রাস্তায়ই রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে। এই অবস্থায় ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়া হয়। যেখানে ভেন্টিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটর, সাকশন মেশিন ও অক্সিজেন সাপোর্টসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটি প্রথম কয়েক বছর জরুরি সেবায় ব্যবহার হলেও ২০২৪ সাল থেকে পড়ে আছে খোলা জায়গায়। তার ওপর ধুলোবালুর স্তর পড়েছে। নিয়মিত পরিচালনা না হওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চুরি ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।
গত বুধবার দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কথা হয় দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরা এলাকার কলেজছাত্র রবিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর বাবা অলিউর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হলে অনেক কষ্টে ৮০ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু রোগীকে রেফার করা হয় বিশেষায়িত হাসপাতালে। এই মুহূর্তে দরকার লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু সেটি না পেয়ে তিনি তাঁর বাবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক টাকা ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যাচ্ছেন ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জেলার ২৬ লাখ মানুষের জন্য লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সটি অতিপ্রয়োজনীয় নিরাপদ একটি পরিবহন। যেটি ব্যবহার হতে পারতো মুমূর্ষু রোগীদের জীবনরক্ষার কাজে। কিন্তু সেটি হাসপাতালের পেছনে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হওয়া ছাড়াও খোয়া যাচ্ছে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এই ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহানের ভাষ্য, বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত চালক ও দক্ষ মেডিকেল টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। যার কোনোটিই নেই। তা ছাড়া সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও অনেক বেশি। যে কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহৃত না হওয়ার বিষয়টি জানা আছে দাবি করে সিভিল সার্জন আজিজুল হক বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি হচ্ছে। সেই কমিটির সভাপতি থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। কমিটি গঠনের পর প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগসহ জ্বালানি খরচের ব্যাপারে আলোচনা করে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- অ্যাম্বুলেন্স সেবা
