ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চরফ্যাসনে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ, সাবাড় হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বাগান

চরফ্যাসনে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ, সাবাড় হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বাগান
×

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৩৬ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ১০:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘনবসতি এলাকায় গড়ে উঠেছে ৩০টি ইটভাটা। এর মধ্যে ১৭টি ভাটায় সীমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমোদন থাকলেও বাকিগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। বছর ঘুরে এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর কর্মযজ্ঞ শুরু হলে পোড়ানো হয় বিপুল পরিমাণ কাঠ। এতে সাবাড় হচ্ছে ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বাগান।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ ইটভাটা নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। ভাটাগুলোর সবই স্থাপিত হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কৃষিজমি এবং ম্যানগ্রোভ বনের নিকটবর্তী স্থানে। উপজেলার বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক ও এওয়াজপুর, আসলামপুর, নীলকমল, আহম্মদপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরঘেঁষে অনেক ইটভাটা গড়ে উঠেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ইটভাটায় ১২০ ফুট চিমনি থাকার কথা থাকলেও ৩০-৪০ ফুট চিমনির চুল্লি দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে অধিকাংশ ইটভাটা। যেখানে ফসলি জমির মাটি কেটে তৈরি হচ্ছে ইট। চুল্লির উচ্চমাত্রার তাপের কারণে ইটভাটা সংলগ্ন মানুষের বাড়ির গাছগাছালি পুড়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে কৃষকের আবাদি ফসল।

সংশ্লিষ্টরা জানান,  সাধারণত এক চিমনির একটি ভাটায় এক মৌসুমে ২৭ থেকে ২৮ লাখ ইট তৈরি হয়। আর দুই চিমনির ভাটায় এক মৌসুমে ৫০ লাখ পর্যন্ত ইট তৈরি করা সম্ভব। এক লাখ ইট তৈরিতে প্রায় দুই হাজার মণ কাঠ পোড়াতে হয়। হিসাব অনুযায়ী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে প্রতিবছর কয়েক লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। 
চরফ্যাসন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাম হোসেন জানান, ম্যানগ্রোভ বাগানের কাঠ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে– এমন তথ্য তাদের জানা নেই। 

চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার এমাদুল হোসেন বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ধরনের ইটভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। 

আরও পড়ুন

×