সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু
২৫ কোটি টাকা পাচার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করেন।
৫ এপ্রিল মামলার প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অন্য আসামিরা হলেন– সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ভাই সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, শাহ আলম, জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজি আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, এম এ সবুর ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী, ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, আবদুল হামিদ চৌধুরী, আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান, মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন ও বজল আহমেদ বাবুল, জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী, ইয়াছিনুর রহমান, ইউছুফ চৌধুরী ও সাইফুল ইসলাম, আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল, প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, মো. জাহিদ, মো. শহীদ, মো. সুমন, ইলিয়াস তালুকদার ও ওসমান তালুকদার।
দুদক পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, ব্যাংক থেকে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা। সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন। দুদক তদন্ত করে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তার ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাঁর কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ, তাঁর স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ মামলাটি করেছিলেন। ৩১ আসামির মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেন। তারা হলেন ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম।
- বিষয় :
- টাকা আত্মসাৎ
