ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাছকে সন্তানের মতো আগলে রাখেন শিক্ষক মোস্তাক

গাছকে সন্তানের মতো আগলে রাখেন শিক্ষক মোস্তাক
×

সহযোগীদের নিয়ে সড়কের পাশে থাকা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত শিক্ষক মোস্তাক। ছবি: সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৪৯

পৃথিবী আর তার প্রকৃতি রক্ষায় গাছের মূল্য কতটা তা অনুধাবন করতে পারা বিরল মানুষদের একজন মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর জে. সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মোস্তাক আহাম্মদ। উপজেলার এই নিবেদিতপ্রাণ মানুষটি তাই গাছের জন্য নিঙড়ে দিয়েছেন তাঁর হৃদয়ের সবটুকু প্রকৃতিপ্রেম।

মোস্তাক আহাম্মদ একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটস এবং হবিগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে নিরলসভাবে বৃক্ষরোপণ করে যাচ্ছেন মোস্তাক।

নিজের এই কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদ জানান, উপজেলার যেখানেই ফাঁকা স্থান পেয়েছেন গাছ লাগিয়েছেন তিনি। এখনও তাই করেন। বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, শ্মশান– এখন পর্যন্ত এসব স্থানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফলদ গাছের চারা রোপণ করেছেন তিনি। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে–  কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, বেল, জলপাই, কদবেল, পেয়ারা, লটকনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষ।

এরই মধ্যে জগদীশপুর জে. সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে লাগানো গাছগুলোতে তিন বছর ধরে ফল ধরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা গাছে ফল আসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ফল উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম দিকে মোস্তাক আহাম্মদ জগদীশপুর জে. সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজ তাঁর নেশা ও ভালোবাসায় পরিণত হয়। শুধু গাছ লাগানোতেই তিনি থেমে থাকেননি। রোপণ করা প্রতিটি গাছের চারপাশে বেড়া দেওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

মোস্তাক আহাম্মদের হাত ধরে জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে বড়ধলিয়া, ইটাখোলা রেলস্টেশন ও পূর্ব চারাভাঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্তোষপুর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও মসজিদ, জগদীশপুর-সন্তোষপুর-চারাভাঙ্গা সম্মিলিত কবরস্থান, জগদীশপুর-মির্জাপুর সড়ক, বেলঘরের দুটি প্রধান রাস্তা, বিভিন্ন মাদ্রাসা, কবরস্থান ও শ্মশান এলাকায় গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া বেলঘর-তেঘরিয়া সড়ক এবং তেমুনিয়া উত্তর বেজুরা সড়কেও তিনি অসংখ্য গাছের চারা রোপণ করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কথা মাথায় রেখে মোস্তাক আহাম্মদ জগদীশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার পাশে এবং রেললাইনের ধারে কয়েক হাজার তাল বীজও রোপণ করেছেন।

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকে পাঠানো দুই বস্তা খেজুরের বীজ এনে সেগুলোও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেছেন। স্থানীয় বেলঘর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ শামীম বলেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের গাছের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অনন্য। রাস্তার পাশে বা কোনো খালি জায়গা দেখলেই সেখানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন।

মাধবপুরে বেলার পরিবেশকর্মী ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, তাঁর লাগানো গাছের কারণে আমাদের পরিবেশ দিন দিন আরও সবুজ ও শ্যামল হয়ে উঠছে। সমাজের সবাই যদি তাঁর মতো এগিয়ে আসেন, তাহলে পরিবেশ কিছুটা হলেও সুস্থ হয়ে উঠবে।

জগদীশপুর জে. সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নুরুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে সবসময় সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে থাকেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন।

আরও পড়ুন

×