পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ হয়নি দেড় দশকেও
স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পর ১৬ বছর ধরে বন্ধ গল্লামারী বধ্যভূমি সমকাল
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘ছবি তুলবার জন্য গল্লামারীর অভ্যন্তরে ধানক্ষেতে ঢুকে দেখলাম এক নৃশংস দৃশ্য। একাধিক লাশ পড়ে আছে সেখানে। একটি কুকুর খাচ্ছে, আর দূরে একটি লাশের পাশে আরেকটি কুকুর বসে হাঁপাচ্ছে। মনে হয় মানুষ খেয়ে তার উদর অতিমাত্রায় পরিপূর্ণ। ভাবতেও আশ্চর্য লাগে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বলে খ্যাত মানুষকে কুকুর টেনে ছিঁড়ে খাচ্ছে।’
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক দিলরুবা বেগমের উদ্ধৃতি দিয়ে মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধ কোষ দ্বিতীয় খণ্ডের ১৩৭ পাতায় গল্লামারী বধ্যভূমির এই দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘খুলনা শহর মুক্ত হওয়ার পর গল্লামারী খাল থেকেই দুই ট্রাক মাথার খুলি পাওয়া গিয়েছিল। খোঁজ করলে আরও অজস্র মাথার খুলি ও শরীর হাড় পাওয়া যেতে পারে।’
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা এবং অজস্র মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতে গল্লামারীতে একটি স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে কাজও শুরু হয়। কিন্তু একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পর বন্ধ হয়ে যায় সে কাজ। এরপর ১৬ বছর পার হয়েছে। আজও পূর্ণতা পায়নি স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স। এমনকি স্তম্ভে যাওয়ার সড়কটিও পাকা হয়নি।
খুলনা জেলা পরিষদ থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় ছিল গল্লামারী বধ্যভূমি। ১৯৯৫ সালে খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক গল্লামারীর তিন একর জমিতে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। ওই বছর ২৬ মার্চ তার উদ্বোধন করা হয়। খুলনাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আনোয়ার ইকবাল চৌধুরী পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য খুলনা জেলা পরিষদকে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। তাঁর নির্দেশনায় সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সের নকশা তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী সৌধের মূল স্তম্ভ ছাড়াও তার চারপাশে ১০ ফুট লাল টাইলস বসানো হাঁটার পথ, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী, পার্কিংয়ের জায়গা, সীমানা প্রাচীর, গেট, নিরাপত্তা শেড, রেস্টুরেন্ট, দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান, পানির ফোয়ারা ছিল।
সূত্রটি জানায়, অর্থ বরাদ্দের পর দুই দফা দরপত্র আহ্বান করে জেলা পরিষদ। দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালের ২৩ জুন আহ্বান করা দরপত্রে কাজটি পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজাদ-ইলোরা জেভি। যার কার্যাদেশ হয় ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর। ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে মূল স্তম্ভের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
২০১১ সালের ১০ মার্চ স্মৃতিসৌধের স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমন মূল স্তম্ভ পরিদর্শন করেন। ওই সময় প্রকৌশলীরা জানান, পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করতে ৯ কোটি টাকা প্রয়োজন। এরপর কখনও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কখনও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনেক চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
খুলনা জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, মূল সড়ক থেকে স্মৃতিসৌধে যাওয়ার পথটি পাকা করতে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
- বিষয় :
- স্মৃতিস্তম্ভ
