ইউরোপে যাওয়ার পথে নিহত অভিবাসনপ্রত্যাশীর ৪ জন সুনামগঞ্জের
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় সময় নৌকা ডুবে অভিবাসীদের মৃত্যু ঘটে। ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ২৩:৩৩ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০০:২৫
উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে কমপক্ষে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের চারজন রয়েছেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে তারা প্রাণ হারান।
স্থানীয় সাংবাদিক উমেদ আলী জানান, তাঁর ভাগনে নুরুজ্জামান সরদার ময়না এ ঘটনায় মারা গেছেন।
একই গ্রামের রোহান আহমেদ জানিয়েছেন, তিনিও একই বোটে ছিলেন। তাঁর চোখের সামনে এই চারজনসহ অন্যদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
চারজন হলেন- উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও রনারচর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতদের স্বজনরা জানান, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ওয়াকিব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান নামে এক মানব পাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয়রা দ্রুত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানব পাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার বলেন, ‘নিহতের পরিবারের কেউ যোগাযোগ করেনি। এ জন্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকসহ এলাকার কেউ কেউ এমন সংবাদ জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নিহত চারজন কুলঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।’
- বিষয় :
- ভূমধ্যসাগর
- অভিবাসনপ্রত্যাশী
- নৌকাডুবি
- নিহত
- সুনামগঞ্জ
