সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান রায়হান আলী
বেড়া উপজেলার সোনাপদ্মা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী রায়হান আলী সমকাল
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘অনেকে আমাকে ভিক্ষা করতে বললেও আমার লজ্জা লাগত। তাই আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার জন্য এই কাজ বেছে নিয়েছি। পুঁজির অভাবে ব্যবসা বড় করতে পারছি না। যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতেন এবং একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা হতো, তবে পরিবার নিয়ে আরও ভালোভাবে চলতে পারতাম।’ কথাগুলো বলছিলেন পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপদ্মা গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী রায়হান আলী (৩০)।
জন্ম থেকেই দুই পায়ে চলার শক্তি নেই রায়হানের, দুই হাতও কিছুটা অস্বাভাবিক। চাইলে সহজেই অন্য দশজনের মতো ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি। হাত পেতে নয়, বরং খেটে খাওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কয়েক বছর ধরে জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। অভাবের সংসারকে ঠিকই নিজের কাঁধে আগলে রেখেছেন তিনি।
শৈশবে বাবাকে হারানো রায়হানের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও দুই বোন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সব দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। মায়ের জমানো সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করেন হাঁস-মুরগি ও কবুতরের ব্যবসা। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এগুলো কিনে এনে তিনি রাকসা বাজার, গেটের বাজার ও নতুন বাজারে বিক্রি করেন। এই সামান্য আয় দিয়েই বড় বোনকে অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছেন, যা এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে চার সদস্যের অভাবী সংসার চলছে এই হাড়ভাঙা খাটুনির উপার্জনে।
নতুন বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রায়হানের কষ্ট ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমি আমার দোকানের সামনে তার বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ওর মতো পরিশ্রমী ছেলে সচরাচর দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী হলেও সে কারও কাছে হাত পেতে কিছু নেবে না।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন গড়ে মাত্র এক থেকে দুইশ টাকা আয় করে কোনোমতে দিন কাটছে রায়হানের। তাঁর এই লড়াই শুধু টিকে থাকার নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে বাঁচার। সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে রায়হানের এই অদম্য যাত্রাপথ আরও সুগম হতে পারে।
স্থানীয় সমাজকর্মী বুলবুল হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে রায়হান একটি স্থায়ী দোকান দিয়ে পুরোপুরি স্বাবলম্বী হতে পারতো।
এ বিষয়ে বেড়া ইউএনও রুনাল্ট চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। উপজেলা প্রশাসন থেকে এমন মানুষদের জন্য সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। যোগাযোগ করলে আমরা সাধ্যমতো তাঁর পাশে দাঁড়াবো।’ জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুল কবীর জানান, রায়হানের জীবন-সংগ্রাম অনুকরণীয়। দ্রুত খোঁজ নিয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
- বিষয় :
- সম্মাননা
